দিন আনা দিন খাওয়ার মাঝেই অলিম্পিকে যাওয়ার স্বপ্ন রাজ্য ক্যারাটেতে সোনা জয়ী পিতৃহীন মমতার

আমার কথা,দুর্গাপুর, ২১শে মার্চ
মেয়ের স্বপ্ন, সে যে মায়েরও স্বপ্ন, কিন্তু শুধু স্বপ্ন দিয়ে কি আর পেট ভরে? তাই সোনা জয়ের আনন্দটা ঠিক মতো বোধহয় অনুভব করতে পারছেন না মমতার মা সুমিত্রাদেবী। কে এই মমতা, আর কিসেরই বা সোনা জয়? বলছি
চলুন তার আগে ঘুরে আসি দুর্গাপুর পুরসভার ৪৩নং ওয়ার্ডের সুকান্তপল্লীর এক চিলতে টালির চালা দেওয়া মাটির একটি ঘরে। ডিভিসি-র ক্যনেল পাড়ের ছোট্ট এই ঘরটিতেই বাস মা আর মেয়ের। মমতা হাঁসদা। দুর্গাপুর রায়রানি উচ্চবিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেনীর ছাত্রী এই মমতা হাঁসদা। ১২ বছর আগে অসুস্থতার কারনে মারা যান মমতার বাবা লক্ষ্মীরাম হাঁসদা। দারিদ্রতার মধ্যেই দিয়েই বেড়ে ওঠা মমতা একসময় স্কুলে শুধু আত্মরক্ষার জন্য ক্যারাটে প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছিল, কিন্তু সেটা যে কখন স্বপ্ন হয়ে তার চোখে বসে গেছিল তা সে নিজেও জানে না। আর হাজার দারিদ্রতার মধ্যেও সেই স্বপ্নকে হারাতে দেয়নি মমতা, আর সেই স্বপ্নকে পাথেয় করে রবিবার কলকাতা ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপের আসর থেকে বাজিমাত করল এই হতদরিদ্র মেয়েটি সোনা জিতে জাতীয় স্তরে জায়গা করে নিল মমতা। অনুর্ধ্ব ২০ ক্যারাটের ৫৫ কেজি বিভাগে সোনার পদক জয় করে সে। মমতার এই সাফল্যের কথা এখন দুর্গাপুরের বাতাসে, তাই শুধু জাতীয় স্তরেই নয় ২০২০ সালে অলিম্পিকে ভারতীয় দলের হয়ে যাতে সে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে তার জন্য আইওএ-কে আবেদন করার কথা ভাবছেন দুর্গাপুরের ক্রীড়াপ্রেমীরা। সবই তো হল, তাহলে আটকাচ্ছে কোথায়? পিতৃহীন মমতার মায়ের দিনমজুরীর টাকা সাথে কয়েকটা ছাগলপালনের টাকায় কি আসবে পুষ্টিকর খাবার, যা মমতার অনুশীলনের জন্য খুবই জরুরী। রেশনের থেকে পাওয়া চালের ভাত খেয়ে, খোলা জায়গায় অনুশীলন করে নিজেকে তৈরী করতে হচ্ছে তাকে। টালির ছাউনির বাড়ি যা ভেঙে পরতে পারে যে কোনোদিন, এদিকে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় এখনও জোটেনি ঘর, এমনকি আগামী ৩১শে মার্চের মধ্যে বধর্মান জেলা কে যে নির্মল জেলা গড়ার লক্ষ্য নিয়েছে জেলা প্রশাসন, সেই নির্মল বাংলার শৌচালয় পাওয়ার ভাগ্যও হয়নি মমতার। এত দারিদ্রতার মাঝেও কিন্তু স্বপ্নকে হারিয়ে যেতে দেয়নি মমতা। তাই তো তার মুখে শোনা গেল, “এখন পার্পেল বেল্ট পেয়েছি। আগামী বছর ঠিক ব্ল্যাক বেল্ট পেয়ে যাব। অলিম্পিকের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। দেশের জন্য পদক আনবই”। এদিকে মেয়ের এই স্বপ্ন রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে তাঁর মা সুমিত্রা দেবীর। “লাগবে ১৫ হাজার টাকা। দিনমজুরীও তেমন একটা জোটে না, আর ছাগল পালন করে সংসার চালানোই দায়। মেয়ের জন্য সেভাবে তো কিছুই করতে পারি না। এতগুলো টাকা পাব কোথায়”। নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর সংসারে এখন শুধু স্বপ্ন আর মনের জোরকে একমাত্র অবলম্বন করে এগিয়ে যেতে চায় মমতা।

 

 

 

Spread The Word