ফেসবুকের পরিচয়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘর ছাড়া, দু’মাস পর দিল্লি থেকে উদ্ধার লাউদোহার নাবালিকা

আমার কথা, দুর্গাপুর, ২৯জুনঃ

মাধ্যমিক পরীক্ষার পর নিজের মোবাইলে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা আর তার থেকেই ফেসবুকে আসক্তি চলে আসে একরত্তি মেয়েটির। আর এই আসক্তিই কাল হয়েছিল লাউদোহার তিলাবনী গ্রামের ওই নাবালিকা মেয়েটির। না দেখা না চেনা না জানা, শুধুমাত্র মুখের কথার ওপর ভিত্তি করে এক যুবকের হাত ধরে ঘর ছেড়েছিল ওই নাবালিকা তাঁর সাথে ঘর বাঁধবে বলে। কিন্তু এক একটা করে যত দিন যেতে লাগল ততই মোহভঙ্গ হতে লাগল নাবালিকার। ফিরতে চাইছিল ঘরে কিন্তু উপায় ছিল না। এদিকে পরিবারের উচাটন আর পুলিশের সহযোগিতায় অবশেষে ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরল।

এ যেন এক রূপোলী পর্দার কাহিনী। লাউদোহার তিলাবনী গ্রামের ওই কিশোরীর সাথে ফেসবুকে পরিচয় দঃ ২৪পরগণার গোসাবার বাসিন্দা প্রশান্ত পালুই(২৩) এর। নিজেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও তাঁর দিদি একজন চিকিৎসক বলে পরিচয় দিয়ে ঘনিষ্টতা বাড়ায় ওই নাবালিকার সাথে। ঘনিষ্টতা থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতেই প্রেম। শুরু হয় ভিডিও কলিং আর ফোনে প্রেমালাপ। চলছিল ঠিকই কিন্তু হঠাৎই একদিন মায়ের কাছে ধরা পড়ে যায় সে। এরপর অন্য পন্থা অবলম্বন করে ওই নাবালিকা। তারই এক বান্ধবীর সাহায্য নেয় সে। বান্ধবীর সাথে ফোনে কনফারেন্সে শুরু হয় আবার প্রেমপর্ব। এরপরেই ওই যুবক ও নাবালিকা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। পরিকল্পনামাফিক ২৯এপ্রিল সকালে টিউশনে যাওয়ার নাম করে নিজের স্কুটি নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় নাবালিকাটি। ওদিকে বর্ধমান স্টেশনে তাঁর জন্য অপেক্ষারত প্রশান্ত। উখরায় নিজের স্কুটি রেখে ট্রেন ধরে নাবালিকা। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান, নাবালিকার সাথে দেখা হল প্রশান্তর। প্রথমেই ওই নাবালিকার মোবাইলের সিমটি ভেঙ্গে ফেলা হয়।

এদিকে দীর্ঘসময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও মেয়ে ঘরে ফিরছে না দেখে নাবালিকার পরিবারের মধ্যে শুরু হয় অস্থিরতা। এরপর তারা যোগাযোগ করে নাবালিকার সেই বান্ধবীর সাথে। তাকে একটু চাপ দেওয়াতেই সে স্মস্ত বিষয় খুলে জানিয়ে দেয় নাবালিকার পরিবারকে। এরপর তারা ফরিদপুর থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে। তদন্তে নামে পুলিশ। শুরু হয় পুলিশের সাথে ওই যুগলের লুকোচুরি খেলা। প্রশান্তর মোবাইল ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পারে ওই যুগল প্রথমে কলকাতা, তারপর গোসাবা,  তারপর পুরী তারপর সেই সুদূর দিল্লীতে গিয়ে ওঠে তারা। এর মাঝে দিল্লীতে প্রশান্তর এক বন্ধুর মাধ্যমে একটি বেসরকারী সংস্থায় কাজও নেয় প্রশান্ত। থাকতে শুরু করে ঘর ভাড়া করে। সেখানে থাকতে থাকতেই ধীরে ধীরে প্রশান্তর আসল পরিচয় জানতে পারে ওই নাবালিকা যে, প্রশান্তর পরিবার মোটেও তার পরিবারের মতো সচ্ছল নয় বরং প্রশান্তর বাবা একজন গরুর ব্যাপারী। নিজের ভুল বুঝতে পারে সে, কিন্তু মোবাইল কাছে থাকলেও সিম না থাকায় নিজের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি সে।

এদিকে প্রশান্তর মোবাইল ট্র্যাক করে যখন ফরিদপুর থানার পুলিশ জানতে পারে যে ওই যুগল দিল্লীতে রয়েছে। এরপর ২৩জুন দিল্লির উদ্যেশে রওনা দেয় একটি টিম। পৌঁছয় দিল্লিতে, উদ্ধার করে ওই নাবালিকাকে। ওই যুগলকে সাথে নিয়ে লাউদোহায় গতকাল এসে পৌছয় পুলিশ। আজ দুর্গাপুর আদালতে তোলা হয় প্রশান্তকে। বিচারক তাকে ১৪দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। ওদিকে পুরো ২মাসের মাথায় নিজের মেয়েকে ফিরে পেয়ে যথেষ্ট খুশি নাবালিকার পরিবার। পুলিশের এই সহযোগিতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নাবালিকার পরিবার।




Spread The Word