বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে চিকিৎসার কারনে মরনাপন্ন রোগিনী, ফের কাঠগড়ায় দুর্গাপুরের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল

আমার কথা, পঃ বর্ধমান, ৭জুলাইঃ

চিকিৎসার নামে রোগিনীর পরিবারকে বিভ্রান্ত করা আর তার দরুণ রোগিনীর শারিরীক অবস্থার অবনতির অভিযোগ উঠল দুর্গাপুরের বিধাননগরের একটি বেসরকারী সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এদিকে এই অভিযোগে হাসপাতালের সিকিউরিটিকে মারধরে অভিযোগ ওঠে রোগিনীর পরিবারের বিরুদ্ধে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি মাসের ৩ তারিখে গলব্লাডারে স্টোন ও অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হন বেনাচিতির বাসিন্দা ইন্দিরা মল্লিক(৩১), সাথে হাসপাতাল থেকে জানানো হয় ইন্দিরাদেবীর কিডনিতেও সমস্যা রয়েছে। হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইন্দিরাদেবীর দুবার ডায়ালিসিস করা হয়। ডায়ালিসিসের পর রোগিনীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয় বলে জানানো হয় হাসপাতালের পক্ষ থেকে। এর মাঝে ইন্দিরাদেবীর স্বামী তাঁর স্ত্রীকে উন্নতমানের চিকিৎসা দেবার জন্য ভেলোরে নিয়ে যাওয়ার জন্য সেখানের চিকিত০সকের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর এই হাসপাতাল থেকে তৃতীয়বার যখন ডায়ালিসিসের জন্য বলে হয় তখন বেঁকে বসেন রোগিনী। তিনি কিছুতেই তাতে রাজী না হওয়ায় হাসপাতালে থেকে রোগীকে নিয়ে চলে যাওয়ার জন্য বলে হয় বলে অভিযোগ। পরে রোগিনীর পরিবার থেকে তাকে তৃতীয়বার ডায়ালিসিসের জন্য রাজী করানো হয়। গতকাল রাতে ডায়ালিসিসও হয় ইন্দিরাদেবী। এরপর আজ সকালে যখন ইন্দিরাদেবীর স্বামী তাকে দেখতে সকালে হাসপাতালে আসেন তখন প্রথমে তাকে কিছুতেই রোগীনির সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়না বলে অভিযোগ। সাথে এও অভিযোগ উঠছে যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হঠাৎই একটি ফর্মে তার স্বামীকে সই করতে বলে এই মর্মে যে, ইদিরাদেবীর শারিরীক অবস্থা খুবই খারাপ তাকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হবে। কিন্তু ইন্দিরাদেবীর স্বামী সই করতে কিছুতেই রাজী হন না। তিনি বারবার ইন্দিরাদেবীর সাথে দেখা করার কথা বলতে থাকেন। এরপর তাকে ইন্দিরাদেবীর সাথে দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। ইন্দিরাদেবীর স্বামী জানান যে, তিনি আইসিইউতে ঢুকে দেখেন যে রোগিনীর সারা শরীর ফুলে গেছে। তিনি তাঁর স্বামীর কানে বলেন যে, “আমি আর নেই, তুমি ভাল থেকো”। এরপর ইন্দিরাদেবীকে ভেন্টিলেশনে নিয়ে যাওয়া হয় ও সাথে জানানো হয় যে তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। এই কথা শোনার পরেই উত্তেজিত হয়ে পড়ে রোগিনীর পরিবার। তারা হাসপাতালে ভাঙ্গচুর ও সিকিউরিটিকে মারধর করে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে অভিযোগ করা হয়। পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন এসিপি(পূর্ব) বিমল মন্ডল, সিআই চন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, নিউটাউনশিপ থানার ওসি দীনেশ মন্ডল সহ বিশাল পুলিশবাহিনী। রোগিনীর পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতালের বিরুদ্ধে সমস্ত বিষয়টি পুলিশকে জানায়। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হাসপাতালের পক্ষ থেকে চিফ মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট ডঃ পার্থ পাল জানান, রোগিনীর শারীরিক অবস্থা এমনিতেই খারাপ ছিল। কোনো ভুল চিকিৎসা এখানে হয়নি। যা যা চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল তাই দেওয়া হয়েছে তাকে।




Spread The Word