জেমস থমাসের মৃত্যু রহস্যে নয়া মোড়, স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কই কি মৃত্যুর কারন?

আমার কথা, পঃ বর্ধমান, ১০জুলাইঃ

দিদির মোবাইলে আগাম সুইসাইড নোট পাঠানো যাতে স্ত্রী, বড় মেয়ে ও বড় জামাইকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করে যাওয়া, সহকর্মীদের মুখ থেকে স্ত্রীর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক কিংবা কবরস্থানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কিছু বলতে গেলে মায়ের মুখ চেপে ধরে তাকে থামিয়ে দেওয়া। সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে এই সব অস্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সাথে সুইসাইড নোটের বয়ান কি তাহলে খুনের সম্ভাবনার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে? খুন করে তাকে আত্মহত্যার রূপ দেওয়ার চেষ্টাই কি করেছেন স্ত্রী ও মেয়ে? এরকম বেশ কিছু প্রশ্ন ঘুরছে দুর্গাপুরের ২৮নং দয়ানন্দ রোডের বাসিন্দা তথা ডিএসপি কর্মী জেমস থমাসের মৃত্যুকে ঘিরে।

জেমস থমাসের মৃত্যুর পর থেকেই দুর্গাপুর নিবাসী জেমসের দিদি রিচেল দাস এটিকে খুন বলে দাবি করছেন। গতকাল রাতে জেমসের স্ত্রী ও মেয়েকে আটকও করেছে পুলিশ। সময় যত গড়াচ্ছে ততই বিভিন্ন তথ্য উঠে আসছে সকলের সামনে।

জেমস একজন সক্রিয় তৃণমূলকর্মী ও খুবই ভাল ও নিরীহ মানুষ বলে পরিচিত ছিলেন। তার সহকর্মী তথা তৃণমূল নেতা জয়ন্ত রক্ষিত জানান যে, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় জেমসের স্ত্রী কোনো এক ব্যাক্তির সাথে প্রণয়ের সম্পর্কে আবদ্ধ হয়ে পড়েন। তা মেনে নিতে পারেননি জেমস। তা নিয়ে অশান্তিও হয় ওই দম্পতির মধ্যে। অশান্তি চরমে উঠলে জেমসের স্ত্রী তার বাপের বাড়ি চলে যান। কয়েকমাস কেটে যাওয়ার পর জেমসের শ্বশুরবাড়ির পরিবার ও স্ত্রী তার কাছে আর এরকম ঘটনা ঘটবে না বলে ক্ষমাও চেয়ে নেন। এরই মধ্যে আবার জেমসের স্ত্রীর কারনে কয়েক লক্ষ টাকার ঋণে জড়িয়ে পড়েন জেমস। সব মিলিয়ে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন জেমস।

জয়ন্তবাবু আরো জানান যে, জেমসের সুইসাইড নোট পাওয়া গেলেও তার শরীরে অবস্থা দেখে তা একদমই সুইসাইড বলে মনে হয়নি বা জেমসের ঘরে সুইসাইডের কোনো সরঞ্জাম পাওয়া যায়নি। এছাড়াও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক পরীক্ষা করে বলেন যে, জেমসের শরীরের লক্ষণ দেখে অস্বাভাবিক লাগছে। এটা পুলিশ কেস করতে হবে। পাশাপাশি জেমসের গলায় সেভাবে কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি বরং তার ঘাড়ে তিনটে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে জেমসের মৃত্যু এখন বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে শিল্পনগরীতে। আজ মৃত জেমসের দিদি রিচেল দাস দুর্গাপুর থানায় মৃতের স্ত্রী, বড় মেয়ে ও বড় জামাইয়ের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 



Spread The Word