দুর্গাপুরে বাসস্ট্যান্ডের আস্তানা গুটিয়ে দশ মাস পর মহারাষ্ট্রে ফিরে চলল প্রকাশ

আমার কথা, পশ্চিম বর্ধমান, ২৬অক্টোবরঃ

মায়ের মৃত্যুর শোক সহ্য করতে পারেনি প্রকাশ বেদি(৩৩)। সেই শোক অনেক বড় প্রভাব ফেলেছিল প্রকাশের মনে। হারিয়ে ফেলে মানসিক ভারসাম্য। তাই কাজকর্ম, বাড়ি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়েছিল অজানার উদ্দেশ্যে। মহারাষ্ট্রের হিঙ্গলঘাটের বাসিন্দা প্রকাশ ভুপালে একটি টেক্সটাইল কোম্পানীতে কাজ করতেন। সেখান থেকেই ঘুরতে ঘুরতে আজ থেকে মাস দশেক আগে দুর্গাপুরে এসে পৌঁছয় প্রকাশ। তারপর থেকে দুর্গাপুরের বাসস্ট্যান্ডই হয়ে উঠেছিল তার বাসস্থান।

এলাকার বাসিন্দারা প্রথমে বিষয়টি ঠিক মতো নিতে না পারলেও ধীরে ধীরে প্রকাশের ওপর মায়া পড়ে যায়। তারাই তাকে খাবার খাওয়ানো থেকে শুরু করে দেখাশুনার দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু প্রকাশের তাতে কোনো হেলদোল ছিল না। সময়ে সময়ে খাবার খেতো আর চুপচাপ বসে থাকত। এভাবে কিছু মাস কেটে যাওয়ার পর  আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে ওঠে প্রকাশ।

এরপর প্রকাশকে জিজ্ঞেস করে তার থেকে বিশদে সব জানতে পারেন স্থানীয়রা। এরপর প্রকাশের থেকে তার পরিবারের সদস্যদের ফোন নাম্বার নিয়ে মহারাষ্ট্রে যোগাযোগ করা হয়। আজ সকালে প্রকাশের এক আত্মীয় মুন্না শংকর লাল পোলি অল আসেন দুর্গাপুরে। কিন্তু শুরুতেই বাধা। রাস্তা চিনতে না পেরে দুর্গাপুর রেলস্টেশনে অপেক্ষা করছিলেন। সেখান থেকে দুর্গাপুর ট্রাফিকের সাথে যোগাযোগ করা হলে মুচিপাড়া ট্রাফিক ওসি হরিশংকর যাদব নিজে দায়িত্ব নিয়ে মুচিপাড়া পর্যন্ত্য প্রকাশের আত্মীয়কে পৌঁছে দেন।

এরপর সেখান থেকে তারা হাসপাতালে পৌঁছন প্রকাশের কাছে। এদিকে প্রকাশ দীর্ঘ তেরো মাস পর তার বাড়ি ফিরবে। তাই স্থানীয়রা দায়িত্ব নিয়ে তার এক মুখ ভর্তি দাঁড়ি কাটিয়ে সাবান শ্যাম্পু দিয়ে ভাল করে স্নান করিয়ে, নতুন পোশাক পরিয়ে এক্কেবারে পরিপাটি করে তৈরি করে দেন।

এরপর আসে সেই শুভক্ষণ যখন প্রকাশের আত্মীয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রকাশকে। চোখের জলে ভারাক্রান্ত মনে মহারাষ্ট্রের ছেলেকে বিদায় জানালেন দুর্গাপুরের মানুষজন।  




Spread The Word