দুর্গাপুরে কারখানায় ডিউটি থেকে উধাও কর্মীই মানকরের মৃত যুবক, মুখ খুলছে না কর্তৃপক্ষ

আমার কথা, দুর্গাপুর, ১৪নভেম্বরঃ

সপ্তাহ খানেক পর মানকর স্টেশন সংলগ্ন নালার ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া মৃত অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের নাম পরিচয় প্রকাশ্যে এল। মৃত যুবকের নাম দীপঙ্কর দেবনাথ(৩৫)।

জানা গেছে, দুর্গাপুরের সগড়ভাঙ্গার শশাঙ্কপল্লী এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে একাই থাকতেন দীপঙ্কর। সগড়ভাঙ্গায় একটি বেসরকারী কারখানায় কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি সগড়ভাঙ্গা মার্কেটে একটি কম্পিউটার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট চালাতেন তিনি।

পরিবার সুত্রের খবর গত ৬নভেম্বর দুপুর ১টা ৫৮মিনিটে কারখানার গেটে কার্ড পাঞ্চ করে ডিউটিতে ঢুকেছিলেন দীপঙ্কর। এরপর তিনি নিজের বাইক নিয়ে সন্ধ্যেবেলা চা খেতে বেরিয়েছিলেন। তাকে শেষ দেখা গেছিল সন্ধ্যে ৭টা ৩০ মিনিটে। কিন্তু তারপর থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। অথচ দীপঙ্করের বাইক ও জুতো কারখানার ভেতর থেকে পাওয়া গেছে। এদিকে দিন তিনেক দীপঙ্করের পরিবার নিজেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে তার সন্ধান না পেয়ে ৯নভেম্বর কোকওভেন থানায় একটি মিসিং ডায়েরী করে। এরপর গত ১২নভেম্বর সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা মানকরে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের খবরটি পরেন। তাতে তাদের সন্দেহ হওয়ায় বুদবুদ ও কাঁকসা থানায় তারা খোঁজখবর করেন। সেখানে কোনো সন্ধান না পেয়ে তারা পানাগড় জিআরপিতে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে তাদেরকে বর্ধমান জিআরপিতে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তারা মৃতদেহ দেখে সনাক্ত করেন যে মৃতদেহটি দীপঙ্করেরই।

দীপঙ্করের দাদা দিবাকর দেবনাথ এটিকে খুনের ঘটনা বলে দাবি করছেন। তার অভিযোগ, কারখানার ভেতর থেকে দীপঙ্করের জুতো ও বাইক যখন পাওয়া গেছে, তখন অনডিউটি থাকা অবস্থাতে সে মানকর স্টেশনে পৌঁছল কি করে? শুধু তাই নয় তার ভাইয়ের মোবাইল ফোনটি খোয়া গেছে যা ক্রমাগত সুইচ অফ বলছে। এদিকে দীপঙ্করের দেহে কোনো পোশাকের চিহ্নও পাওয়া যায়নি। শুধু কোমরে প্লাস্টিকের বেল্ট জড়ানো ছিল।

প্রসঙ্গতঃ আগামী ২৪নভেম্বর দীপঙ্করের বিয়ের দিন স্থির হয়েছিল। সেই মতো সমস্ত প্রস্তুতিও সাড়া হয়ে গেছিল বলে পরিবার সুত্রের খবর। এলাকায় দীপঙ্করের যথেষ্ট সুনাম ছিল। নেশাভাঙ বা চরিত্র নিয়ে কোনো বদনাম ছিল না তার বলে দাবি পরিবাররে। ফলে তার কোনো শত্রু থাকতে পারে বলে মনে করছেন না পরিবার। খুব শিগগির ফ্লাই অ্যাশের নতুন ব্যবসা শুরু করার উদ্যোগও নিয়েছিলেন দীপঙ্কর। সেই কারনে নানা জায়গায় লোনের জন্য চেষ্টাও চালাচ্ছিলেন।

এদিকে এই ঘটনায় কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে একজন কারখানার স্থায়ী কর্মী ডিউটি চলাকালীন কি করে কারখানা থেকে বেরিয়ে চলে গেল? আর তার দেহটি অত দূরে গেলই বা কি করে? আর দীপঙ্করের মোবাইলটিই বা গেল কোথায়? সব মিলিয়ে দীপঙ্করের মৃত্যু ঘিরে তৈরী হয়েছে রহস্য।




Spread The Word