মৃত সন্তান বেঁচে থাকুক অন্যের মধ্যে, দুর্গাপুর থেকে গ্রিন করিডর দিয়ে অঙ্গ গেল কলকাতায়

আমার কথা, পশ্চিম বর্ধমান, ১৮নভেম্বরঃ
২০১৬ সালে হিন্দি সিনেমা ‘ট্রাফিক’ এর কথা মনে পড়ে? অনেকেই হয়ত দেখে থাকবেন সেই সিনেমা। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের অনেক মানুষ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সেই সিনেমা দেখে এসেছেন। আজ দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল খোদ সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেখল। তবে এবার রূপোলী পর্দায় নয়। একেবারে বাস্তবে। কলকাতার বুকে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ঘটনা নতুন কিছু নয়, কিন্তু জেলায় অঙ্গ প্রতিস্থাপনের এই ঘটনা নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।
জানা গেছে, অসমের বাসিন্দা দিলীপ বায়েন একজন সিআইএসএফ কর্মী। বর্তমানে বাঁকুড়ার মেজিয়া পাওয়ার প্ল্যান্টে কর্মরত। স্ত্রী অর্চনা বায়েন ও দুই মেয়েকে নিয়ে বর্তমানে সেখানেই বসবাস করেন। দিলীপবাবুর বড় মেয়ে মধুস্মিতা বাইন(১৩)। ছোট থেকে এক ধরনের মৃগি রোগে আক্রান্ত। দিলীপ বাবুর পরিবার বুঝতেও পারেননি যে তাদের বড় মেয়ের এই রোগ ইতিমধ্যে মস্তিষ্কে থাবা বসিয়েছে। ১১নভেম্বর বাড়িতে অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যায় মধুস্মিতা। ১২নভেম্বর তাকে আনা হয় দুর্গাপুরের বিধাননগরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা করে ঘোষণা করেন যে, মধুস্মিতার ব্রেন ডেথ হয়ে গেছে। মেয়েকে একপ্রকার মৃত ধরে নিয়েই প্রাথমিক শোক কাটিয়ে মধুস্মিতার অভিভাবক সিদ্ধান্ত নেন মেয়ে যখন আর তাদের মধ্যে থাকল না, তখন অন্ত্যত তার অঙ্গ নিয়ে বাঁচুক আর কেউ। মুহূর্তের এই সিদ্ধান্ত তারা জানিয়ে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। হাসপাতাল থেকে যোগাযোগ করা হয় কলকাতায়। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক লিভার বিশেষজ্ঞ ডঃ অভিজিৎ চৌধুরীর তত্বাবধানে একটি চিকিৎসকের দল গতকাল রাত ১০টা নাগাদ এসে পৌঁছন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে তারা আজ দুপুরে দুর্গাপুরের এই বেসরকারী হাসপাতালে আসেন।
হাসপাতাল সুত্রের খবর, আজ বিকেলে অস্ত্রপচার করে মধুস্মিতার কর্ণিয়া, দুটি কিডনি, লিভার সংগ্রহ করে গ্রিন করিডরের মাধ্যমে নিয়ে যাওয়া হবে এসএসকেএম হাসপাতালে। জানা গেছে, যেহেতু মধুস্মিতার বয়স খুবই কম তাই হার্ট প্রতিস্থাপন করার মতো উপযুক্ত কোনো গ্রহীতার খোঁজ মেলেনি।
এদিকে মধুস্মিতার অঙ্গ কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার পথে যাতে কোনো বাধার সৃষ্টি না হয় তার জন্য দুর্গাপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত্য তৈরি করা হয়েছে গ্রিন করিডর। দুর্গাপুরের বেশ কিছু রাস্তায় যান চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দুর্গাপু্রের বেসরকারী হাসপাতালটি থেকে মুচিপাড়া পর্যন্ত্য শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ও ২নং জাতীয় সড়কে যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আর তার কারনে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট থেকে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ। রয়েছেন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি(ট্রাফিক), এসিপি কাঁকসা, এসিপি দুর্গাপুর(পূর্ব), ডিসি(পূর্ব), ৪টি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সহ প্রচুর পুলিশকর্মী।

Spread The Word