দুর্গাপুর থেকে দুই কিশোরীকে অপরহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই দুই যুবক

আমার কথা, পশ্চিম বর্ধমান, ২৩নভেম্বরঃ

দুই নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই অপহরণকারী। ধৃতদের নাম মহঃ হোসেন ও মুর্তাজা আনসারী। অপহৃত দুই নাবালিকা দুর্গাপুরের বাসিন্দা এবং বিধাননগরে একটি স্কুলে নবম শ্রেণীতে পাঠরতা। অপহরকারীদের আজ দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়।

জানা গেছে, দুর্গাপুরের মুচিপাড়ার বাসিন্দা অভিযুক্ত মহঃ হোসেন বিধাননগরের টেটিখোলায় একটি নাচের স্কুল চালায়। সেখানে বেশ কয়েকজন কিশোরী নাচের প্রশিক্ষনও নেয় বলে জানা গেছে। অপহৃত ওই দুই নাবালিকার মধ্যে একজন মহঃ হোসেনেরই সেই নাচের স্কুলে নাচ শিখতে যেত। চলতি মাসের ১২ তারিখে কলকাতায় একটি নাচের প্রতিযোগীতায় অংশ নেওয়ার জন্য ওই নাবালিকা সহ ওই এলাকারই আরো এক নাবালিকাকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় মহঃ হোসেন বলে অভিযোগ। কিন্তু কলকাতায় না নিয়ে গিয়ে ওই দুই কিশোরীকে স্টেশোন থেকে বাসে করে সিউড়ি নিয়ে যায়। সেখানেই মুর্তাজা আনসারী নামে অপর এক অভিযুক্তের বাড়িতে নিয়ে তোলা হয় ওই দুই কিশোরীকে। সেখানে দুজনকে আটকে রাখা হয় বলে জানা গেছে। পরেরদিন অর্থাৎ ১৩নভেম্বর ওই দুই কিশোরীকে মহঃ হোসেন প্রথমে দুমকায় নিয়ে যায় এবং পরের দিন ফের সিউড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এরপর একদিন দুজনকে রামপুরহাটেও ঘুরিয়ে নিয়ে আসে। এরপর ১৫নভেম্বর সকলের ঘুমিয়ে থাকার ফাঁকে দুই কিশোরীর মধ্যে একজন পালাতে সক্ষম হয়। সে সোজা দুর্গাপুরে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে ও পরিবারকে পুরো বিষয়টি খুলে বলে। ইতিমধ্যে দুই কিশোরীর নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুই পরিবার থেকে নিউটাউনশিপ থানায় জানানো হয়েছিল। পালিয়ে আসা কিশোরীর মুখে বিস্তারিত শুনে নিউটাউনশিপ থানার পুলিশ সিউড়িতে হানা দিয়ে মুর্তাজা আনসারীকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আজ ভোরে দুমকা থেকে মহঃ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাথে উদ্ধার হয় অপর কিশোরী।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ধৃতদের সাথে কোনো নারী পাচারকারীদের যোগাযোগ আছে। আর ওই দুই কিশোরীকে সম্ভবতঃ বিক্রি করে দেওয়ার উদ্দ্যেশ্যেই অপহরন করা হয়েছিল। এখন ধৃতদের জেরা করে পুলিশ পুরো বিষয়টি জানার চেষ্টা চালাচ্ছে।




Spread The Word