অদৃষ্টের পরিহাস? মধুস্মিতার কিডনি গ্রহীতাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু, অপরের অবস্থা আশঙ্কাজনক

আমার কথা, কলকাতা, ২৩নভেম্বরঃ

বুকে পাথর চাপা দিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাঁকুড়ার মধুস্মিতার বাবা মা যে, তাদের মৃত সন্তান বেঁচে থাকবে অন্যদের মধ্যে বিধাতার পরিহাসে কি সেই আশা ক্রমশ ফিঁকে হয়ে যাচ্ছে? মধুস্মিতার কিডনির গ্রহীতা কলকাতার দমদমের বছর কুড়ির অভিষেক মিশ্রার আজ মৃত্যু হল হাসপাতালে। চিকিৎসক সুত্রের খবর হার্ট অ্যাটাকের কারনে মৃত্যু হয় অভিষেকের। শুধু তাই নয় এসএসকেএম হাসপাতাল সুত্রের খবর, মধুস্মিতার অন্য আরেকটি কিডনির গ্রহীতা মিঠুন দালালের শারীরিক অবস্থাও খুব একটা আশাপ্রদ নয়।

জানা গেছে, অভিষেকের জন্ম হয় শরীরে একটি কিডনি নিয়ে। চার বছর আগে ওই একটি কিদনিও তার খারাপ হয়ে যায়। এরপর চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দেন যে, অভিষেককে বাঁচাতে হলে তার শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে হবে। তা শুনে অভিষেকের মা ভারতী মিশ্রা নিজের কিডনি ছেলেকে দিতে চান, কিন্তু রক্তের গ্রুপ না মেলায় তা সম্ভব হয়নি। সেই সময় থেকেই তারা কিডনিদাতার সন্ধানে ছিলেন। এরপরেই গত রবিবার মধুস্মিতার কিডনি অভিষেকের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়।

যদিও চিকিৎসকরা জানিয়েই দিয়েছিলেন যে, কিডনি প্রতিস্থাপনের পর ৭২ঘন্টা না কাটলে বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না। এদিকে কিডনি প্রতিস্থপনের পর অভিষেকের শরীরের অবস্থা প্রথমে ভাল থাকলেও গতকাল রাত থেকে তার অবনতি হচ্ছিল। চিকিৎসকরা জানান, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ধকল নিতে পারেনি অভিষেক। আজ সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ মৃত্যু হয় অভিষেকের।

এদিকে মধুস্মিতার অপর কিডনির গ্রহীতা নদীয়ার রানাঘাটের বাসিন্দা মিঠুন দালাল(২৩) এর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক। কিদনি প্রতিস্থাপনের পর থেকেই মিঠুনের মুত্র ত্যাগের পরিমান কম ছিল। এখনও কোনো উন্নতির খবর নেই। ফলে মিঠুনকে নিয়েও আশঙ্কয়ায় রয়েছে চিকিৎসকমহল।

প্রসঙ্গতঃ দুর্গাপুরের একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসারত মধুস্মিতার ব্রেন ডেথ হয় ওই হাসপাতালেই। মধুস্মিতার দুটি কর্নিয়া, দুটি কিডনি ও একটি লিভার অন্যদের শরীরে প্রতিস্থাপনের সম্মতি দেন মধুস্মিতার অভিভাবক। মধুস্মিতার ওই অঙ্গগুলি দুর্গাপুর থেকে গ্রিন করিডর করে কলকাতায় নিয়ে আসেন এসএসকেএম হাসপাতালের এক চিকিৎসকের দল। সেখানে কিডনি দুটি অভিশেক ও মিথুনের শরীরে এবং লিভারটি সনিত বালার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে হাসপাতাল সুত্রের খবর সঞ্জিত বালার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।




Spread The Word