দুর্গাপুর নগর নিগমের নিয়োগ নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগে মেয়রের বিরুদ্ধে তোপ মেয়র পারিষদদের একাংশের

আমার কথা, দুর্গাপুর, ৪ডিসেম্বরঃ

শহরে একটি পাম্পিং স্টেশনে কর্মী নিয়োগে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠল খোদ মেয়রের বিরুদ্ধে, আর তারই প্রতিবাদে দুর্গাপুর নগর নিগমে মেয়রের ডাকা বৈঠক বয়কট করলেন মেয়র পারিষদদের এক বড় অংশ, আর তাদের এই বয়কটের বিষয়টিকে সমর্থণ করেছেন বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর বলেও জানা গেছে।

বিধাননগরে একটি ওয়াটার পাম্পিং স্টেশন রয়েছে, যার দায়িত্ব ছিল আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ণ পর্ষদের ওপর। সম্প্রতি সেই পাম্পিং স্টেশনটি দেখভালের দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হয় দুর্গাপুর নগর নিগমকে। নগর নিগমের পক্ষ থেকে ২০জন অস্থায়ী কর্মীকে সেই পাম্পিং স্টেশনে নিয়োগ করা হয়, আর এই নিয়োগকে কেন্দ্র করেই তৈরী হয়েছে বিতর্ক। দুর্গাপুর নগর নিগমে মোট মেয়র পারিষদের সংখ্যা ৯, যার মধ্যে ৬জন মেয়র পারিষদ এই নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে তোপ দেগেছেন খোদ মেয়র দিলীপ অগস্থির বিরুদ্ধে। বৈঠকে অনুপস্থিত ওই ৬জন মেয়র পারিষদ হলেন মানি সোরেন, ধর্মেন্দ্র যাদব, রুমা পাড়িয়াল, নিজাম হোসেন মন্ডল, রাখী তিওয়ারী ও অঙ্কিতা চৌধুরী। যদিও সুত্রের খবর, অঙ্কিতা চৌধুরী অসুস্থতার কারনে গতকাল থেকেই পুরসভায় আসছেন না, আর সেই কারনে আজকের বৈঠকে তিনি থাকতে পারবেন না  তা আগাম মেয়রকে আগে থেকে জানিয়েও দিয়েছেন।

বিক্ষুব্ধ  মেয়র পারিষদ মানি সোরেন বলেন যে, “এই নিয়োগের বিষয়টি তাদের সাথে আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খোদ মেয়র। সব বিষয় নিয়ে মিটিং হয় অথচ এই বিষয়টি কেন আমরা জানতে পারলাম না? গতকাল মেয়রের সাথে আমরা বসেছিলাম, কিন্তু তিনি এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সমস্ত মেয়র পারিষদ ও কাউন্সিলরদের সাথে আলোচনা করে সব সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তাই এর প্রতিবাদে আমরা বৈঠক বয়কট করেছি।”

এদিকে জল দপ্তরের মেয়র পারিষদ পবিত্র চ্যাটার্জী জানান যে, এই নিয়োগ নিয়ে যে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিষয়টি নিয়ে যারা কথা বলছেন তারা ভেতরের বিষয়টি না জেনেই কথা বলছেন। যে ২০জনকে ওখানে নিয়োগ করা হয়েছে তারা আগে নগর নিগমের জল দপ্তরে কাজ করত। তখনও একটি বিতর্কের কারনে তাদের কাজের থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সাথে বলা হয়েছিল যে, ভবিষ্যতে যদি কোথাও কাজের সুযোগ থাকে তাহলে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সেটাই এখন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে এই বিষয়টি নিয়ে খোদ মেয়র দিলীপ অগস্থি বলেন, “নগর নিগম থেকে কাকে কোথায় নিয়োগ করা হবে তা সবাইকে জানানোর কোনো নিয়ম পুরসভার কোনো আইনে নেই। নিয়োগের সম্পূর্ণ ক্ষমতা মেয়র আর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ওপর নির্ভর করছে। যারা বলছেন তারা না জেনেই কথা বলছেন।”

পাশাপাশি আজ মেয়র পারিষদদের বৈঠক বয়কট প্রসঙ্গে মেয়র বলেন যে, “বৈঠকে কোরাম করে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেখানে ৩জন মেয়র পারিষদ উপস্থিত ছিলেন আর ৩জন উপস্থিত থাকলেই কোরাম তৈরী করা যায়।”

নগর নিগম থেকে কর্মী নিয়োগের এই ঘটনায় মেয়রের বিরুদ্ধে যে জেহাদ ঘোষণা করেছেন মেয়র পারিষদদের একাংশ, আর তা নিয়ে গতকাল থেকে নগর নিগমে তৈরী হয়েছে চাপানউতোর। তার ফলে নগর নিগমের পরিচালন ব্যবস্থায় যে অন্তর্দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে তাতে কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তার দিকেই তাকিয়ে নগরবাসী।




Spread The Word