মুকুল বাবুলের দেওয়া চেক ফিরিয়ে দিলেন কাঁকসায় নিহত বিজেপি কর্মী সন্দীপের পরিবার

আমার কথা, দুর্গাপুর, ১৭ডিসেম্বরঃ
রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করতে করতে চরম সীমায় পৌঁছে প্রানহানি আর তারপর সরকার থেকে আর নয়ত বিরোধী দলের থেকে সেই মৃতের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এ হল চিরাচরিত চিত্র। কিন্তু তারও যে কখনও কখনও ব্যাতিক্রম ঘটে তা দেখা গেল আজ কাঁকসার রূপগঞ্জে।
বিজেপির রূপগঞ্জের বুথ সভাপতি সন্দীপ ঘোষ খুন হন দুষ্কৃতিদের হাতে। আজ নিহত কর্মীর পরিবারের সাথে দেখা করতে গেছিলেন বিজেপি সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় ও বিজেপি নেতা মুকুল রায়। মৃতের পরিবার তাদের দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ভেঙ্গে পড়েন মৃতের বাবাও। তাদের সমবেদনা জানিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকার একটি চেক সন্দীপের বাবার হাতে তুলে দিতে গেলে তিনি তা নিতে অস্বীকার করেন। পরে সেই চেক তুলে দেওয়া হয় মৃত সন্দীপের বিধবা এক দিদির হাতে। প্রথমে তিনি সেই চেকটি গ্রহণ করলেও পরে তা ফেরত দিয়ে দেন।
সন্দীপের বাবার অভিযোগ, “টাকা নিয়ে আমরা কি করব, আমার জলজ্যান্ত ছেলেটা মরে গেল। সে কি আর ফিরে আসবে?” পাশাপাশি মৃত সন্দীপের দিদি আর্জি জানান যে টাকা নয় সরকারের কাছে আবেদন যদি একটি চাকরী তাদের পরিবারের কাউকে দেওয়া হয়।
তবে বিজেপির পক্ষ থেকে বাবুল সুপ্রিয় প্রতিশ্রুতি দেন যে, “সন্দীপের পরিবার চেক নিতে অস্বীকার করছেন। তবে আমরা এই টাকা সন্দীপের দিদির যে আট বছরের ছেলে রয়েছে তার পড়াশুনার জন্য ফিক্সড ডিপোজিট করে দেবো।” এছাড়া চেক ফিরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি এও দাবি করেন যে, “তৃণমূল থেকে ভয় দেখানো হয়েছে মৃতের পরিবারকে, যাতে বিজেপির কাছ থেকে কোনো সাহায্য না নেওয়া হয়।”
এদিন সন্দীপের খুনের মূল অভিযুক্ত সেখ সাইফুলের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয় বিজেপির পক্ষ থেকে। তবে এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা মুকুল রায় বলেন যে, “এফ আই আর কপিতে মূল অভিযুক্তের নাম দেখলাম সেখ সাইফুলের, যে কিনা এখনও ধরা পড়েনি। এইভাবে সারা বাংলা জুড়ে যে হত্যালীলা চলছে তাতে বাংলায় গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নিজের দলের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে সন্দীপের এই রক্ত আমরা ব্যর্থ হতে দেবো না।”




Spread The Word