শ্রমিক সংগঠনগুলির ডাকা প্রথম দিনের ভারত বনধে বিক্ষিপ্ত ঘটনা পঃ বর্ধমানে

আমার কথা, দুর্গাপুর, ৮জানুয়ারীঃ
৮ ও ৯ জানুয়ারী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সারা ভারত ব্যাপী বনধ ডেকেছে সিটু, আইএনটিইউসি সহ অধিকাংশ কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। দুদিনের এই ভারত বনধে নানা বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্যে দিয়ে প্রথম দিনটি অতিবাহিত হচ্ছে। এই রাজ্যে বনধ ব্যর্থ করার ডাক দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু বনধ সফল করতে মরিয়া সিটু সমর্থকরা আজ সকাল থেকে পথে নেমে পড়েন। আর তাদের আটকাতে সক্রিয় হয় ওঠে রাজ্য সরকারের পুলিশ। তার ফলে এই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় নানা বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটতে দেখা যায়।
শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর ও আসানসোলেও বন্ধ সমর্থকদের নানা পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়। আর তা আটকাতে গিয়ে বহু ধর্মঘটীদের কোথাও আটক, আবার কোথাও গ্রেপ্তার করতে দেখা যায়। দুর্গাপুরে কোক ওভেন থানা এলাকায় বাঁকুড়া মোড়ের কাছে পুরুলিয়াগামী একটি সরকারী বাসে ভাঙ্গচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে সিপিএম সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এদিন সকালে রেল অবরোধ করতে দেখা যায় সিপিএম সমর্থকদের। সিপিএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকার সহ ৮৪জন ধর্মঘটীকে গ্রেপ্তার করে কোকওভেন থানার পুলিশ।


অপরদিকে আজ সকালে অন্ডালে র কাজোরা স্টেশন এ হাওড়া রামপুরহাট ময়ূরাক্ষী ট্রেন অবরোধ করতে যায় সিটু শ্রমিক সংগঠনের লোকেরা। স্টেশনের সামনে পুলিশ তাদের আটকায়, ফলে ব্যর্থ হয় অবরোধকারীরা। তারা কাজোরা বাজারে মিছিল করতে থাকলে স্থানীয় তৃণমূলের লোকেরা লাঠি হাতে ছুটে আসলে উত্তেজনা বেড়ে যায় এলাকায়। অবস্থা বেগতিক দেখে অন্ডাল থানার পুলিশ অবরোধকারীদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। কমপক্ষে ৪০ জন সিটু সমর্থক আটক হয় এই ঘটনায়।

এদিন জামুড়িয়ার মন্ডলপুর মোড়ের কাছে ধর্মঘটের সমর্থনে রাস্তা অবরোধ করেছিল সিপিএম সমর্থকরা। সেই সময় কলকাতাগামী দক্ষিনবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার একটি বাস আসছিল। সেই বাসে ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালায় ধর্মঘটীরা। এই হটনার জেরে অন্যান্য বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। খবর যায় থানায়। জামুড়িয়া থানার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


পাশাপাশি আজ রানীগঞ্জের নেতাজী মূর্তির কাছে সকাল থেকে পথ অবরোধ করে সিপিএম সমর্থকরা। এই অবরোধে সামিল হন বিধায়ক রুণু দত্ত ও প্রাক্তন সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরী। এদিন অবরোধের জেরে ৬০নং জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। রানীগঞ্জ থেকে বাঁকুড়া রুটের সমস্ত বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয় সাধারন মানুষজনদের। অবরোধের খবর পৌঁছয় থানায়। এরপর রানীগঞ্জ থানার পুলিশ এসে অবরোধ তুলতে গেলে তখনই অবরোধকারীদের সাথে ধ্বস্তাধ্বস্তি শুরু হয়। পুলিশ বারে বারে চেষ্টা করেও বিফল হয়। এরপর মোতায়েন করা হয় পুলিশ।




Spread The Word