চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে চোখ নষ্ট স্ত্রীর, জেলাশাসকের দপ্তরে ধর্ণায় দম্পতি

আমার কথা, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১২ফেব্রুয়ারীঃ
চিকিৎসায় গাফিলতিতে চোখ নষ্ট হয়েছে স্ত্রীর, বারবার অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা না হওয়ায় অবশেষে জেলাশাসকের দপ্তর এর সামনেই স্ত্রী সন্তানকে সাথে নিয়েই ধর্নায় বসলেন পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের শেখ জোয়াদ আলী। অবশেষে জেলাশাসকের আশ্বাসে উঠলো ধর্না।
উল্লেখ্য, হাঁটুর ব্যথা নিয়ে গত বছর মার্চ মাসে মেদিনীপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসেন কেশপুর নিবাসী হাবিবা বিবি। পরীক্ষার পর জানা যায় হাবিবা বিবির “বোন টিবি আর্থারাইটিস” রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ মত টিবি রোগের ওষুধ চলতে থাকে হাবিবা বিবির। কিন্তু এই ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াতেই নষ্ট হয়ে যায় তার একটি চোখ। পুরো বিষয়টি বুঝে জেলার সিএমএইচ থেকে কেশপুরের বিএমওএইচকে অভিযোগ জানায় হাবিবা বিবির স্বামী জোয়াদ আলী। কিন্তু দীর্ঘদিন কেটে গেলেও কোন প্রতিকার না মেলায় অবশেষে মআজ সকাল থেকে মেদিনীপুর জেলাশাসকের দপ্তর এর সামনে ধর্নায় বসে পরিবার। পুলিশ প্রথমে হটিয়ে দেবার চেষ্টা করলেও দম্পতির জেদের সামনে হার মানতে হয় পুলিশকেও। অবশেষে জেলা শাসকের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিবরণ জানায় জোয়াদ আলী। জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনা শুনে জেলা শাসক পি মোহন গান্ধী আশ্বাস দেন পুরো চিকিৎসার দায় ভার নেবে সরকার। প্রয়োজনে সরকারি খরচেই হাবিবা বিবিকে নিয়ে যাওয়া হবে চেন্নাই। চোখ ফিরে পেতে যাবতীয় পদক্ষেপ করবে জেলা প্রশাসন। আর এর পরেই ধর্ণা তুলে নেন হাবিবা বিবির পরিবার।
প্রশ্ন উঠছে, গাফিলতিতে জড়িতরা আদৌ শাস্তি পাবে কি ? আদৌ কি জাহিদ বিবি ফিরে পাবে তার চোখ? চোখ ফিরে নতুন করে দেখার আশায় বুক বাঁধছে কেশপুরের জাহিদা বিবি ও তার পরিবার।

Spread The Word