ডিভিসি মোড়ে জাতীয় সড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইওভার, হেলদোল নেই কর্তৃপক্ষের

আমার কথা, দুর্গাপুর, ১৫মার্চঃ

গতিময় জীবনে আরো বেশী গতি আনতে সাথে মূল্যবান সময় সাশ্রয় করতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ২নং জাতীয় সড়ক সম্প্রসারন করল বছর দুয়েক হয়ে গেল। ছিল চার লেন, হল ছয় লেন। ফলে এই ছয় লেন ধরে খুব কম সময়ের মধ্যে, নির্বিঘ্নে যানজট এড়িয়ে নিজের গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে যাতায়াতকারীরা। এদিকে সড়ক সম্প্রসারন করতে গিয়ে স্থানীয়দের রোজের যাতায়াতের পথ পরিবর্তন হল। জাতীয় সড়ক পারাপারের জন্য কোথাও আন্ডারপাস আবার কোথাও ফ্লাইওভার তৈরী করা হল। 

এরকমই একটি ফ্লাইওভার তৈরী করা হয়েছে দুর্গাপুরের ডিভিসি মোড়ে। এই ফ্লাইওভার ধরে প্রতিদিন বহু বাইক, বাস, এমনকি পণ্যবাহী লরি কিংবা ট্রাক এপার থেকে ওপার যাওয়া আসা করে। বাঁকুড়ার দিক থেকে, কিংবা দুর্গাপুর স্টেশনের দিক থেকে সিটি সেন্টার হয়ে ডিএসপি টাউনশিপে যাওয়ার জন্য জাতীয় সড়ক পেরোতে হয় আর তার জন্য এই ফ্লাইওভারটিই অন্যতম প্রধান অবলম্বন। কিন্তু এই ফ্লাইওভার ব্যবহারকারীদের অভিযোগ যে, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ তাদের সুবিধার্থে এই ফ্লাইওভার করতে গিয়ে উল্টো তাদের বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অত্যন্ত বিপদের ঝুঁকি নিয়ে এই ফ্লাইওভারটি পারাপার করতে হয়। যে কোনো মুহুর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। প্রথমতঃ এই ফ্লাইওভারটি ‘ইউ’ আকারে তৈরী করা হয়েছে আর তার জন্য দুটি বড় গাড়ি মুখোমুখি পেরোনোর জন্য রাস্তা যতটা চওড়া হওয়ার দরকার তা যথেষ্ট পরিমাণে নেই, ফলে বেশী জায়গা পেতে গিয়ে ফ্লাইওভারের ওপর থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার একটা প্রবল সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে গাড়িগুলির। শুধু তাই নয় ট্রলার, ট্রাক বা বড় বাসের গতিবেগ একটুও যদি বেশী থাকে তাহলে মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনাও দেখা দিচ্ছে।  দ্বিতীয়তঃ এই ফ্লাইওভারটি যেখানে এসে মিশেছে সেখানে দু’পাশ দিয়ে জাতীয় সড়ক থেকে আরো দুটি রাস্তা এসে এই ফ্লাইওভারের মুখে মিশছে। এই ফ্লাইওভারে ওঠার নিময় হল অদুরে একটি রোটারি রয়েছে যেটিকে ঘুরে এসে ফ্লাইওভারে উঠতে হয়। কিন্তু এর জন্য অভিমুখের কোনো চিহ্ন দেওয়া নেই অর্থাৎ কোনো ডিরেক্সন দেওয়া নেই। ফলে যারা প্রথম ওই ফ্লাইওভার ব্যবহার করতে চাইবেন তাদের পক্ষে নিয়ম জানা দুষ্কর হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়াও নিত্য যাতায়াতকারীদেরও অনেকেই সময় বাঁচানোর জন্য ওই রোটারী না ঘুরে ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে এসে একেবারে সরাসরি ফ্লাইওভারে উঠে পড়ছেন। এর ফলেও সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে দুর্ঘটনার।

খন দেখার বিষয় ফ্লাইওভার ব্যবহারকারীদের এই অসুবিধার বিষয়টি বা এই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের বিষয়টি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ কি বিবেচনা করবেন, নাকি তাঁরা অপেক্ষায় থাকবেন বড় কোনো দুর্ঘটনার।     

 

Spread The Word