টানা বৃষ্টিপাতে থমকে গেছে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের জনজীবন

আমার কথা, দুর্গাপুর, ১০অক্টোবরঃ
টানা বৃষ্টিতে জেরবার শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর। হঠাৎই নিম্নচাপের জেরে গতকাল বিকেল থেকে শুরু হয় টানা বৃষ্টিপাত। কখনও ভারী বৃষ্টিপাত আবার কখনও ইলশেগুড়ি। সব মিলিয়ে বিরামহীন বৃষ্টিতে স্তব্ধ শিল্পাঞ্চলের জনজীবন। তবে শুধু বৃষ্টি নয়, সাথে ঝোড়ো হাওয়াও বইতে থাকে সারা রাত।
টানা এই বৃষ্টিপাতের জেরে দুর্গাপুর পুরসভার বিভিন্ন এলাকা বলতে গেলে প্রায় জলের তলায়। ২৮নং ওয়ার্ডের নামো সগড়ভাঙ্গা জলমগ্ন। ক্যানেলের জল ঢুকে পড়েছে এই এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে। জলের তলায় রাস্তাঘাট।
একই চিত্র ২৯নং ওয়ার্ডেও। ডেয়ারী কলোনী এলাকায় একটি বন্ধ কারখানা থেকে জল ঢুকে পড়ে কারখানা সংলগ্ন প্রায় ৪৬টি বাড়িতে। গতকাল রাত থেকে স্বপরিবারে বসেই কাটাচ্ছেন এলাকাবাসীরা। এখনও পর্যন্ত্য দেখা মেলেনি কাউন্সিলর সুনীল চ্যাটার্জীর। যদিও কিছু সময়ের জন্য এলাকা পরিদর্শন করে যান অপর এক কাউন্সিলর রুমা পাড়িয়াল তবে তারপরেও এখনও কোনো ত্রাণ মেলেনি। ফলে স্বভাবতই ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসীরা। তাদের অভিযোগ, প্রতিবারই বৃষ্টি হলেই তাদের ঘরে জল ঢুকে পড়ে। প্রশাসন সব দেখেও চুপচাপ।
সব থেকে জটিল পরিস্থিতি তামলা, মেনগেট, ওয়ারিয়া, মানা, খাটপুকুর সহ আশেপাশের এলাকাগুলি। জলবন্দী হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রারা। তামলা নদীর জল ঢুকে পড়েছে তাদের ঘরে। ভেঙ্গে পড়েছে কিছু কাঁচা বাড়ি সাথে ভেঙ্গে পড়েছে দেওয়াল।
পাশাপাশি দুর্গাপুর আদালত চত্বর সহ বেশ কিছু জায়গায় ভেঙ্গে পড়েছে বড় বড় গাছ, রাস্তার ওপর গাছ ভেঙ্গে পড়ে বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল, সাথে ভেঙ্গে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। ফলে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বেশ কিছু জায়গা।

দুর্গাপুরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শণে বেরিয়েছেন মহকুমা শাসক শঙ্খ সাঁতরা সহ প্রশাসণিক কর্তারা। সাথে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দুর্গাপুর পুলিশ। মহকুমা শাসকের দপ্তরে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। মহকুমা এলাকায় প্রায় ২৫০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। দুটো জায়গায় লঙ্গরখানা খোলা হয়েছে।
এদিকে ব্যারেজ থেকে ৩০হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


শঙ্খ সাঁতরা জানান যে, “যে যে জায়গায় মানুষজন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন আমরা দ্রুততার সাথে তাদের ত্রাণের ব্যবস্থা করছি। বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সজাগ থাকতে বলেছি। ব্লকগুলোতে বিডিও সহ আমাদের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটদের নজরে রাখতে বলেছি। সাথে রয়েছেন দুর্গাপুর পুলিশের এসিপি, সি আই। মেডিক্যাল টিমকেও নির্দেশ দেওয়া আছে বিভিন্ন এলাকায় যাওয়ার জন্য। এছাড়াও আমাদের সাথে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরাও রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত্য কোনো হতাহতের খবর আমাদের কাছে নেই।”

Spread The Word