পদ্মশিবিরে কাঁটা, বিধায়ককে বিরুদ্ধে ফের বিস্ফোরণ ঘটালেন জেলা কমিটির সদস্য
আমার কথা, ১৪ ফেব্রুয়ারী
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রকাশ্যে আসছে পদ্মের অন্তরে দ্বন্দ্ব। আর সেই উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে এবার দুর্গাপুর। দলেরই জেলা কমিটির সভাপতির মুখে শোনা গেল বিস্ফোরক অভিযোগ, মাথা থেকে পা পর্যন্ত দুর্নীতিগ্রস্ত বর্তমান বিধায়ক। এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা, আর সামনে চলে এসেছে বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের চিত্র। দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘরুইকে নিশানা করে দলের জেলা কমিটির সভাপতি অভিজিৎ ভট্টাচার্য একের পর এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি ফের দুটি পোস্টে তিনি সরাসরি বিধায়কের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। শুধু তাই নয়, তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যদি দল ওই বিধায়ককেই প্রার্থী করে, তাহলে আমিও নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াবো।” তাঁর আরও দাবি, বিধায়ক আই-প্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে যায় জেলা বিজেপির অন্দরে। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘরুই।অন্যদিকে, জেলা বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মন্ডল পাল্টা বলেন, “তোলামূলের কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়ার পরে এরকম কথা বলাটাই স্বাভাবিক। যঅখন যেদিক উনি কিছু পান, তখন সেদিকেই উনি ঝুঁকে যান।আর তোলামূলের কাছে প্রচুর টাকা রয়েছে, তাই তারা এরকম একশটা নির্দল প্রার্থী দাঁড় করাতে পারে। কিন্তু এসব করে কোনও লাভ হবে না। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে জয়লাভ করবে বিজেপিই।” সমালোচনায় সরব হয়ে জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় বলেন,”দলের বিধায়ককেই মানছে না দলের কর্মীরা। কারণ ওনারা ঠিকই বুঝতে পেরেছেন লক্ষ্মণ বাবু কিছুই কাজ করেননি। আগামী দিনে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরো বাড়বে। বঙ্গে তৃণমূল ঝড়ে উড়ে যাবে বিজেপি।”



