‘বাল্যবিবাহ’ প্রতিরোধে সচেতনতা ও ‘স্বাস্থ্যপরীক্ষা’ কর্মসূচী পান্ডবেশ্বরে
আমার কথা, পান্ডবেশ্বর, ২৭ জুলাইঃ
পাণ্ডবেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির দিগন্ত কমিউনিটি হলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সংক্রান্ত একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হল শনিবার এবং একই সাথে এখানে ইসিএল শোনপুর বাজারি এরিয়ার সহযোগিতায় অপুষ্টিতে ভুগতে থাকা কিছু শিশুদের জন্য একটি হেল্থ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল। এই হেল্থ ক্যাম্পে ৫০ জনের বেশি শিশুদের হেল্থ চেক-আপ করা হয় ও পুষ্টিকর খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করা হয়। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিডিও বৃষ্টি হাজরা,পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রমা রুইদাস, পঞ্চায়েত সমিতির শিশু নারী কর্মাধ্যক্ষ সুখদা হেমব্রম, থানার সেকেন্ড অফিসার সমীর হালদার, ইসিএল সোনপুর বাজারি এরিয়ার HOD(LRE) অভিষেক ডুডওয়াল, পাণ্ডবেশ্বর এর ৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান এবং জেলা শিশু সুরক্ষা অধিকারিকের প্রতিনিধিরা।
এই অনুষ্ঠানের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিডিও পাণ্ডবেশ্বর বৃষ্টি হাজরা বলেন যে “বাল্যবিবাহের মতো একটা সামাজিক ব্যাধিকে সমাজে কোন অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই এই ব্যাধিকে নির্মূল করার জন্য জেলা শিশু সুরক্ষা দপ্তরের সহযোগিতায় আজকে এই প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হল।”
এই প্রশিক্ষণ শিবিরে ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডাক্তারবাবু পীযূষ কান্তি মন্ডল বাল্যবিবাহের দরুন মেয়েদের ও শিশুদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ কিরীটি মুখার্জি তার বক্তব্যে বলেন যে “বাল্যবিবাহ রোধ করার জন্য গ্রামের প্রতিটি বুথে গিয়ে প্রান্তিক মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে এবং যেকোনো মূল্যে বাল্যবিবাহ রোধ করতে হবে।” একই সাথে বলেন যে “‘বাল্যবিবাহ রোধে পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাল কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে যেতে হবে।”
জেলা শিশু অধিকারিক দপ্তরের প্রতিনিধি রাজকুমার মিশ্র বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং শিশু অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে আইনের বিভিন্ন দিকগুলি তুলে ধরেন এবং একই সাথে যেকোনো জায়গায় বাল্য বিবাহের মতো ঘটনা ঘটলে ১০৯৮ নাম্বারে অবিলম্বে কল করে প্রশাসনকে খবর জানিয়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ইসিএল শোনপুর বাজারি এরিয়ার প্রতিনিধি অভিষেক ডুডওয়াল বলেন ইসিএল শোণপুর বাজারির বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতভাবে হেল্থ ক্যাম্প করে এবং তারাও বাল্যবিবাহ রোধে বা যেকোনো সামাজিক কর্মসূচিতে পাণ্ডবেশ্বর ডেভেলপমেন্ট ব্লকের সাথে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রমা রুইদাস বলেন যে “বাল্যবিবাহ রোধ, শিশু অধিকার রক্ষা এসব বিষয় গুলি নিজের পরিবারের সমস্যার মতোই দেখতে হবে এবং সহমর্মিতার সাথে এর প্রতিকারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হবে। এই উদ্দেশ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ব্লক প্রশাসনকে আরও নিবিড়ভাবে ব্লকের প্রতিটি গ্রামে গিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।



