ধর্ষণ কান্ডে জেল খাটা ব্যবসায়ীর হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি
আমার কথা, ১৯ ফেব্রুয়ারী
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
ধর্ষণের অভিযোগে তিন মাস তিহার জেল খাটা ব্যবসায়ীর হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন মঞ্চে বিজেপির রাজ্য সভাপতি! এটাই হচ্ছে বিজেপির কালচার নতুন কিছু নয় কটাক্ষে তৃণমূল। দুর্গাপুরের কাঁকসা এলাকার মুচিপাড়ার মার্বেল ব্যবসায়ী হিরন্ময় দাস যার বিরুদ্ধে ২০২২ সালে দিল্লিতে এক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করেছিল দিল্লি পুলিশ বলেও অভিযোগ। সেই মামলায় তিন মাস জেলও খাটতে হয়েছিল বলে জানা যায়। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে জলাভূমি ভরাট ও সরকারি জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে স্থানীয় মহলে। এমন এক বিতর্কিত ব্যক্তির উদ্যোগে গড়ে উঠতে চলা বেসরকারি হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বুধবার দুপুরে হাজির ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য, সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এবং বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই প্রমুখ। আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কাঁকসার মুচিপাড়ায় তাঁর বিশাল মার্বেলের শোরুম রয়েছে। সেই চত্বরেই তৈরি হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল। তবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মঞ্চে বিজেপি নেতৃত্বের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। উল্লেখ্য, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কয়লা মাফিয়া রাজু ঝা বিজেপিতে যোগ দেওয়াকে ঘিরেও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। এবার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের ধর্ষণ মামলার অভিযুক্তকে ঘিরে বিজেপির অস্বস্তি বাড়ল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শমিক ভট্টাচার্য বলেন, “যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজেই উত্তর দিতে পারবেন। দেশে আইন আছে, আইনের শাসন আছে। আপনাদের কোনও অভিযোগ থাকলে থানায় গিয়ে জানান।” অন্যদিকে হিরন্ময় দাসের দাবি, “আমাকে ভিত্তিহীন অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছিল। মাসখানেক আগে আদালত আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করেছে।” কটাক্ষ করে জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “যে ব্যক্তি দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল, সে এখন বিজেপির ঝাণ্ডা ধরে বাঁচার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোনও লাভ হবে না। বাংলার মানুষ বিজেপিকে যোগ্য জবাব দেবে” বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটাই প্রশ্ন
দুর্নীতি, কয়লা ও ধর্ষণ-অভিযুক্তদের আশ্রয় কি তবে বিজেপির নতুন কৌশল? নাকি নির্বাচনের আগে সব অভিযোগকেই ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার রণনীতি?দুর্গাপুরের রাজনৈতিক ময়দান এখন সরগরম। নির্বাচন যত এগোবে, এই ইস্যু যে আরও জোরালো হবে, বলে মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।



