দুর্গাপুরে বনধে নেতৃত্ব দেওয়ায় সিটু নেতাকে কাজে যেতে বাধা, কাঠগড়ায় তৃণমূল
আমার কথা, দুর্গাপুর, ১২ জুলাইঃ
ধর্মঘটে নেতৃত্ব দেওয়ায় দুর্গাপুরের এক সিটু নেতাকে কর্মস্থলে যেতে বাধা। অভিযোগের তির শাসকদলের বিরুদ্ধে। ঘটনায় উত্তাল শিল্পাঞ্চল রাজনীতি।
গত ৯ জুলাই কেন্দ্রের নতুন শ্রম আইন সহ বেশ কিছু দাবিতে সারা ভারত ব্যাপী বনধের ডাক দিয়েছিল ১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন ও শিল্প ফেডারেশন। বনধ সফল করতে সারা রাজ্যের সাথে সাথে শিল্পনগরী দুর্গাপুরেও সক্রিয়ভাবে পথে নামতে দেখা গিয়েছিল বামেদের। দুর্গাপুর বাস স্ট্যান্ড, দুর্গাপুর রেল স্টেশন সহ যে সব জায়গায় সিটু কর্মীরা প্রতিবাদেপথে নেমেছিল সেই সব জায়গার বেশিটাতেই অগ্রভাগে দেখা গিয়েছিল সিপিআই(এম) এর শ্রমিক সংগঠন সিটুর জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য সিদ্ধার্থ বসুকে। অভিযোগ, সেটাই নাকি ছিল তাঁর অপরাধ।
সিটু নেতা সিদ্ধার্থ বসু দুর্গাপুরের লেনিন সরণির বেসরকারি ইস্পাত কারখানার স্থায়ী কর্মী। ৯জুলাই ধর্মঘটে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার কারনে সেদিন তিনি কারখানায় যাননি। সিদ্ধার্থবাবুর অভিযোগ, “পরেরদিন যখন আমি কারখানায় কাজে যাই তখন তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী আমাকে কাজে যোগ দিতে বাধা দেয়। তাঁরা বলে, কারখানায় কাজ করতে গেলে আগে তৃণমূলের ৩নং ব্লকের সহ সভাপতি রিন্টু পাঁজা ও তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর থেকে লিখিত অনুমতি আনতে হবে। জেলা সভাপতি ওই তৃণমূল কর্মীদের আদৌ এ কাজ করতে বলেছে নাকি সেটাও আমরা জানিনা। হয়তো জেলা সভাপতির নাম ব্যবহার করছে।”। এ বিষয়ে সিদ্ধার্থবাবু যাদের নাম নিয়েছে তাঁরা হলেন ওই কারখানারই কর্মী পুকাই, শ্রীকান্ত, প্রণব পাল, সাগর গড়াই। এরা প্রত্যেকেই তৃণমুল কর্মী বলেও পরিচিত।
এই ঘটনায় সিটুর তরফ থেকে জেলাশাসক, মহকুমা শাসক ও পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
তৃণমূলের ৩নং নম্বর ব্লক সহ-সভাপতি রিন্টু পাঁজা বলেন,”এই ঘটনার সাথে তৃণমূলের কোনো সম্পর্ক নেই। হয়তো কারখানায় কোন খারাপ কাজ করেছে সেজন্য কারখানা কর্তৃপক্ষ ঢুকতে দিচ্ছে না।
অন্যদিকে এ বিষয়ে আইএনটিটিইউসি-র রাজ্য সভাপতি ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায় বলেন, “যদি সিদ্ধার্থবাবু পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে থাকেন, আর দোষ যদি প্রমাণ হয় তাহলে প্রশাসন নিশ্চয়ই ব্যবস্থা গ্রহণ করবে”।



