শমিকের সৌজন্যে গুরুত্ব? দুর্গাপুরে মোদির সভার আমন্ত্রিত দিলীপ
আমার কথা, দুর্গাপুর, ১৪ জুলাইঃ
ইদানিং কালে রাজ্যে পদ্মশিবিরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বড় বড় নেতা থেকে দলীয় কর্মীদের উপস্থিতির মাঝে দিলীপ ঘোষের অনুপস্থিতি চোখে পড়ছে । ডাক পড়ে না সেভাবে কোনো অনুষ্ঠানে। এমনকি রাজ্য সভাপতির সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানেও ডাক পাননি এক সময়ের দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষের। কিন্তু সব কল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার সেই দিলীপ ঘোষের কাছে পৌঁছে গেল আমন্ত্রণপত্র। দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাতে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েই এই পত্র পাঠানো হয়েছে তাঁকে। সোমবার সেই আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে গেল দিলীপবাবুর কাছে।
দীঘাতে জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণ রক্ষা করতে সস্ত্রীক গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তারপর থেকেই বলতে গেলে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের অনেকের কাছেই চোখের বালি হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই একের পর এক দলীয় কর্মসূচীগুলিতে দেখা যায়নি দিলীপবাবুকে। ফলে অনেকেই মনে করেছিলেন দলের সাথে ক্রমশ দুরত্ব বাড়ছে দিলীপ ঘোষের। এমনকি দুর্গাপুরে রথযাত্রা অনুষ্ঠানে এসে নাম না করে দলের রাজ্য নেতৃত্বের এক নেতার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন দিলীপবাবু। এমনকি এই দুরত্বের কারনে অনেকে এও বলতে শুরু করেছিলেন যে দিলীপ ঘোষ হয়ত এবার তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন। এরই মাঝে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বে বদল এলো। সুকান্ত মজুমদারের জায়গায় রাজ্য সভাপতি হলেন শমিক ভট্টাচার্য্য। রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর এই প্রথম বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুর্গাপুরে হবে সভা। প্রস্তুতি তুঙ্গে। কিন্তু তারই মাঝে আবারও জল্পনা শুরু হয় মোদির সভায় ডাক পাবেন কি দিলীপ ঘোষ? কারন দলের নির্দেশে দিলীপ ঘোষের অনিচ্ছা সত্বেও শেষ মুহূর্তে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রে পদ্মশিবিরের প্রার্থী করে পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। সেই নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী কীর্তি আজাদের কাছে হেরে যান এই দাপুটে নেতা। ফলে ২৬’ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভায় তাঁকে ডাকা হবে কিনা তা নিয়ে ছিল সংশয়। তবে সব সংশয়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আমন্ত্রণ পেলেন দিলীপবাবু। জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৭ তারিখ রাতেই দুর্গাপুর পৌঁছে যাবেন দিলীপবাবু। অর্থাৎ বঙ্গ বিজেপিতে শমিক যুগ শুরু হতেই দিলীপ ঘোষের সাথে গেরুয়া শিবিরের দুরত্ব কমছে? ফের স্বমহিমায় ফিরছেন এই দাবাং নেতা? তবে এত সবের পরেও রাজনীতির ময়দানে আগের ছন্দেই তিনি ফিরবেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।



