দু’লক্ষ টাকার লোহার খাঁচার ডাস্টবিন! প্রশ্নের মুখে দুর্গাপুরের জেমুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত
আমার কথা, ২১ জানুয়ারী
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
একটি লোহার খাঁচার ডাস্টবিন বসানোকে কেন্দ্র করে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে দুর্গাপুরের জেমুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। পঞ্চায়েতের অধীন কালীগঞ্জ মোড়ে সম্প্রতি স্থাপন করা এই ডাস্টবিনের গায়ে লাগানো বোর্ডে লেখা রয়েছে, ‘টোটাল এস্টিমেটেড খরচা ২ লক্ষ টাকা’। যদিও একই বোর্ডে প্রকৃত খরচের জায়গাটি ফাঁকা রাখা হয়েছে। এই বোর্ড প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সাধারণ একটি লোহার খাঁচার ডাস্টবিনে কি সত্যিই দু’ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারে? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে কালীগঞ্জ মোড় সংলগ্ন এলাকা পরিষ্কার ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনার উন্নতির উদ্দেশ্যে এই লোহার খাঁচার ডাস্টবিনটি বসানো হয়। এলাকাবাসী পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও, বোর্ডে লেখা বিপুল অঙ্ক দেখে অনেকেরই ভ্রু কুঁচকে যায়। বিশেষ করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, বাজারে লোহার দরের হিসেব করলেও এই ধরনের একটি খাঁচা তৈরিতে দু’ লক্ষ টাকা খরচ হওয়ার কথা নয়।ব্যবসায়ীদের মতে, সাধারণত এ ধরনের ডাস্টবিনের খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম হয়। তাঁদের প্রশ্ন, তাহলে এই অঙ্ক কীভাবে নির্ধারিত হল? আবার বোর্ডে কেন প্রকৃত খরচের জায়গা ফাঁকা রাখা হয়েছে? এই প্রশ্নগুলিকে ঘিরেই ধীরে ধীরে বিতর্ক দানা বাঁধে। বিতর্কের মুখে পড়ে জেমুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের বিদ্যুৎ কর্মাধ্যক্ষ স্বাধীন ঘোষ জানান, বোর্ডে উল্লেখ করা দু’ লক্ষ টাকার অঙ্কটি আসলে একটি প্রিন্টিং মিস্টেক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে এই অঙ্কের কোনও মিল নেই এবং ভুলবশতই বোর্ডে এই সংখ্যা ছাপা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর তা সংশোধনের কথাও বলা হয়েছে। যদিও এই ব্যাখ্যায় বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। বিরোধী শিবির বিষয়টিকে হাতিয়ার করে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, এ ধরনের ‘ভুল’ কীভাবে হয়, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তাঁদের দাবি, সরকারি বা পঞ্চায়েতের কোনও কাজেই স্বচ্ছতার অভাব থাকা উচিত নয় এবং জনসাধারণের টাকার হিসাব পরিষ্কারভাবে সামনে আনা প্রয়োজন। এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি নিছক মুদ্রণজনিত ভুল হলেও বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েতের আরও সতর্ক হওয়া দরকার ছিল। আবার অনেকের প্রশ্ন, ভুল যদি হয়েই থাকে, তাহলে কেন আগে থেকেই তা সংশোধন করা হয়নি। সব মিলিয়ে, জেমুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন কালীগঞ্জ মোড়ে বসানো এই লোহার খাঁচার ডাস্টবিন এখন কেবল একটি আবর্জনা ফেলার জায়গা নয়, বরং তা ঘিরেই শুরু হয়েছে স্বচ্ছতা, হিসাব ও প্রশাসনিক দায়িত্ববোধ নিয়ে বিস্তর আলোচনা। এই বিতর্ক আগামী দিনে কোন দিকে গড়ায় এবং বিষয়টির চূড়ান্ত ব্যাখ্যা কী দাঁড়ায়, সেদিকেই এখন নজর দুর্গাপুরবাসীর।



