বিধানসভা ভোটের আগে আবারো জেলা জুড়ে ইডির অভিযান
আমার কথা, ৩ ফেব্রুয়ারী
মুনমুন দত্ত ও সার্থক কুমার দে, প: বর্ধমান:
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের একবার পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একযোগে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালালো ই ডি। কয়লা ও বালি পাচারের টাকা হাওলার মাধ্যমে কোন পথে পরিচালিত হতো, কারা পেতো প্রটেকশন মানি? সেই বিষয়ে এই তল্লাশি বলে সূত্রের খবর।
মঙ্গলবার সকাল সাতটা নাগাদ পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোল ও দুর্গাপুরের একাধিক জায়গায় একযোগে হানা দিয়ে তল্লাশি চালালো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ই ডি। বেশ কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে ইডির আধিকারিকেরা বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়ি অফিস সহ একাধিক জায়গাতে অভিযান চালায়। এদিন ইডি হানা দেয় দুর্গাপুরের সেপকো টাউনশিপের বাসিন্দা প্রবীর দত্তের বাড়িতে। ওই ব্যক্তি অবৈধ বালি পাচারের সাথে যুক্ত বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি, এগারো মাইলের বাসিন্দা বালি কারবারী গৌতম দেবনাথ সহ সেখ হাসান মির্জা বেগ ও উত্তম কেসের বাড়ি ও দপ্তরে অভিযান চালানো হয়। এছাড়াও সিটি সেন্টার সংলগ্ন আম্বেদকর সরণি এবং কাঁকসা থানার ১৯ নং জাতীয় সড়ক সংলগ্ন বাইপাসের ধারে একটি বাড়িতেও তল্লাশি চালায় ই ডি, সাথে দুর্গাপুরের আভিজাত্য বেঙ্গল অম্বুজা এলাকার একটি বাড়িতে তল্লাশি চলে। ওই বাড়ির বাসিন্দা পুলিশ আধিকারিক মনোরঞ্জন মন্ডল বলে জানা গেছে। সম্প্রতি তিনি বুদবুদ থানাতে পোস্টিং পান । তবে এখনো তিনি চার্জ গ্রহণ করেননি। উল্লেখ্য বারাবরী থানার ওসি-র দায়িত্বে থাকাকালীন ওই আধিকারিক সাসপেন্ড হন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও হয়। কি কারনে তার বাড়িতে তল্লাশি সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতুহল।
অন্যদিকে এদিন ই ডি-র অন্য দল হানা দেয় অন্ডালের বক্তানগর, পাণ্ডবেশ্বরের নবগ্রাম ও জামুরিয়া থানার রানীগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড় সংলগ্ন কয়েকটি জায়গায়তে। বক্তারনগরে কিরণ খাঁ নামে বালি ব্যাবসায়ীর বাড়িতে হানা দেয় ই ডি। অন্ডালের মদনপুর ও রানীগঞ্জের একাধিক জায়গায় দামোদর নদী থেকে অবৈধ উপায়ে বালি তুলে পাচারের অভিযোগ রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বলে খবর। আসানসোলের জামুরিয়া থানার পাঞ্জাবি মোড় সংলগ্ন এলাকায় ই ডির আধিকারিকেরা তল্লাশি চালায় ব্যবসায়ী রমেশ বনশল ও তার দুই পুত্র সুমিত বনশল ও অমিত বনশলের বাড়িতে। পাণ্ডবেশ্বর থানার নবগ্রামে সেখ মাইজুল শা নামে কয়লা ব্যবসায়ীর বাড়িতেও এদিন তল্লাশি চালায় ইডি-র দল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে একসময় সেখ মাইজুল শাহ এলাকায় ছোট আকারে কয়লা পাচারের কাজ করতো। পরবর্তী সময়ে উল্কার গতিতে তার উত্থান হয়। নবগ্রামে রয়েছে তার বিলাসবহুল বহুতল বাড়ি। এছাড়াও আসানসোলের কালীপাহাড়িতে একটি সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের অংশীদারির পাশাপাশি ওই ব্যক্তির রয়েছে উখরা শঙ্করপুর মোড় সংলগ্ন জায়গায় বহু তল শপিং কমপ্লেক্স।
এদিন পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর ও আসানসোল মিলিয়ে ৯ টি জায়গায় ইডি তল্লাশি চালায়। যে সকল ব্যক্তির বাড়ি ও অফিসে এদিন তল্লাশি হয়েছে তারা সকলেই কয়লা, বালি পাচার ও মানি লন্ডারিংয়ের সাথে যুক্ত বলে অভিযোগ। অবৈধ কয়লা, বালি পাচারের কালো টাকা হাওলার মাধ্যমে কোন পথে পরিচালিত হতো! কারা কারা পেতো প্রোটেকশন মানি? সেই সূত্র উদ্ধারেই এদিন ই ডি একযোগে তল্লাশি চালায় বলে সূত্রের খবর। তল্লাশির উদ্দেশ্য কি? নগদ টাকা, গয়না উদ্ধার হয়েছে কিনা? কি কি নথি বাজেয়াপ্ত হল সেই বিষয়ে অবশ্য ইডির আধিকারিকেরা মুখ খোলেননি সংবাদ মাধ্যমের কাছে। তবে জানা যায় জামুরিয়ার ব্যবসায়ী রমেশ বনশলের বাড়ি থেকে প্রচুর পরিমাণ নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। তিনটি বস্তা করে সেই টাকা ইডির আধিকারিকেরা সাথে করে নিয়ে যায়। টাকা গুনতে তলব করা হয় স্থানীয় স্টেট ব্যাংকের কর্মীদের। সাথে নিয়ে আসা হয়েছিল টাকা গোনার জন্য তিনটি মেশিনও।



