BREAKING! ৬৩ বছরেই বিদায় নিলেন সকলের প্রিয় ভবানী দা
আমার কথা, ১৩ ফেব্রুয়ারী
সনাতন গরাই, কাঁকসা:

ভবানী ভট্টাচার্য নামটা উচ্চারণ করলেই ভেসে ওঠে এক সদা-হাস্যময়, কর্মব্যস্ত, মানুষের জন্য ছুটে চলা মুখ। ৬৩ বছর বয়সে তাঁর প্রয়াণে যেন থমকে গেল কাঁকসা, স্তব্ধ হয়ে গেল দুর্গাপুরের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডল। শুধু রাজনীতির মঞ্চেই নয়, একসময় তিনি কলমও ধরেছিলেন। সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন জীবনের এক অধ্যায়ে। স্থানীয় সংবাদ চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠান তিনি পরিচালনা করতেন। অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল সেই অনুষ্ঠান। খবরের কাগজের পাতায় মানুষের কথা তুলে ধরা সেই মানুষটিই পরে হয়ে উঠেছিলেন মানুষের সমস্যার সমাধানের অন্যতম মুখ। তাই দুর্গাপুর-এর মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত, অত্যন্ত আপন এক নাম। দলের মিটিং-মিছিল থেকে শুরু করে প্রশাসনিক দায়িত্ব সবেতেই তাঁর অক্লান্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নিয়মিত অফিসে গিয়ে কাজ দেখা, সাধারণ মানুষের কথা শোনা, উন্নয়নের খুঁটিনাটি নিয়ে ভাবনা এই ছিল তাঁর প্রতিদিনের জীবনযাপন।বছরখানেক আগে শরীর ভেঙে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে লিভার সংক্রান্ত ব্যাধিতে ভুগছিলেন তিনি।
চেন্নাই-সহ একাধিক ভিনরাজ্যে চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন। ধীরে ধীরে সুস্থও হচ্ছিলেন।ফিরে আসছিল আশার আলো। কিন্তু হঠাৎ আবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে ভর্তি করা হয় কলকাতার পিয়ারলেস হসপিটালে। সেখানেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর বাড়ি কাঁকসার বামুনাড়া এলাকায়। আজ সেই বাড়ির আঙিনায় শোকের ছায়া আরও গভীর। পরিবার হারাল আপনজন, কর্মীরা হারালেন পথপ্রদর্শক, আর কাঁকসা হারাল তার অভিভাবকসুলভ এক নেতা। যে মানুষটি একসময় কলম দিয়ে মানুষের কথা লিখতেন, পরে প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে মানুষের জন্য লড়তেন আজ তাঁর স্মৃতিই হয়ে থাকবে কাঁকসার মানুষের শক্তি। ভবানীপ্রসাদ ভট্টাচার্যের প্রয়াণ শুধু একটি রাজনৈতিক ক্ষতি নয় এ এক আবেগের বিদায়।
শ্রদ্ধা, অশ্রু ও গভীর প্রণাম।



