কারখানায় কাজ বন্ধ রেখে শ্রমিক নেতাকে সংবর্ধনা, বিতর্ক
আমার কথা, তনুশ্রী চৌধুরী, আউসগ্রাম, ২৮ সেপ্টেম্বরঃ
একদিকে যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রমিকদের কারখানা বন্ধ করে আন্দোলন না করার জন্য আবেদন করছেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর এই আবেদন না মেনেই এবার কারখানায় দীর্ঘক্ষণ ধরে কাজ বন্ধ রাখলেন শ্রমিকরা। তবে শনিবার কোনরকম আন্দোলন করার জন্য কাজ বন্ধ নয়। এদিন সকাল থেকে কাজ বন্ধ করে শ্রমিকরা কারখানার গেটের বাইরে একত্রিত হয়েছিলেন,সদ্য নিযুক্ত তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের ব্লক সভাপতি জগবন্ধু বাউরীকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি এদিন সংবর্ধনা জানানো হয় আউসগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের মাদারের ব্লক সভাপতি শেখ আবদুল লালন কেও।
শনিবার সকালে পানাগড় শিল্প তালুকের মধ্যে বুদবুদের কোটা গ্রাম সংলগ্ন একটি বেসরকারি সিমেন্ট কারখানা এবং একটি মদ প্রস্তুত কারী কারখানার গেটের বাইরে মঞ্চ তৈরি করে শ্রমিকরা সকাল থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন আউসগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের নবনিযুক্ত শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি ও তৃণমূলের মাদারের ব্লক সভাপতিকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য। যাকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
বিজেপি নেতা কৃষ্ণ দয়াল কর্মকারের অভিযোগ, একদিকে যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রমিকদের কারখানা বন্ধ করে আন্দোলন করার জন্য নিষেধ করছেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর কথা না মেনেই শ্রমিকরা কারখানায় কাজ বন্ধ রাখছেন শুধুমাত্র নবনিযুক্ত এক শ্রমিক সংগঠনের ব্লক সভাপতিকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য। তবে এই সংবর্ধনা একদিনের জন্য নয়। পানাগড় শিল্প তালুকের মধ্যে আউসগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের অধীনে যে সমস্ত কারখানা গুলি রয়েছে নিত্যদিন কোন না কোন কারখানার গেটের সামনে চলছে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। মূল কথা হলো শ্রমিক নেতা প্রথমবার দায়িত্ব পাওয়াতেই তাকে শো অফ করার জন্য নিত্যদিন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী দিনে শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ কি হবে সেই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এদিন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুই নেতার পাশাপাশি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন আউসগ্রাম ব্লকের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি তথা পূর্ব বর্ধমান জেলার জেলা পরিষদের সদস্য রামকৃষ্ণ ঘোষ। রীতিমতো তাকে সম্বর্ধনা জানিয়ে একসাথে পাশে বসে ব্লক সভাপতি শেখ আব্দুল লালন সকল শ্রমিকের সামনে তুলে ধরেন যে,তাদের ভেতরে কোন মনমালিন্য নেই। তারা সকলেই এক হয়ে কাজ করবেন। অন্যদিকে এই মঞ্চে দেখা যায়নি প্রাক্তন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের আউসগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের সভাপতি ইন্দ্রজিৎ কোনারকে। গত কয়েকদিন আগে উচ্চ নেতৃত্ব তাকে ব্লক স্তর থেকে জেলা স্তরে শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করেছে।
এদিন ইন্দ্রজিৎ কোনারকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে জানতে চাওয়া হলে টেলিফোনে তিনি জানান, সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের বিষয়ে তাকে কিছুই জানানো হয়নি। কোনরকম আমন্ত্রণও করা হয়নি।
অন্যদিকে শ্রমিক সূত্রে খবর,এদিন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে জেলা পরিষদের সদস্য রামকৃষ্ণ ঘোষ নাকি ঘোষণা করেন খুব শীঘ্রই ব্লক স্তরে যে সমস্ত কারখানা গুলিতে কমিটিগুলি রয়েছে, সেই কমিটি গুলি ভেঙে নতুন কমিটি তৈরি করা হবে। তার এই বক্তব্যের পরই শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক শ্রমিকরা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের কিভাবে উন্নয়ন হবে সেই বিষয়ে শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা না করে তড়িঘড়ি কমিটি ভাঙার জন্য উদ্যোগী হয়েছে ব্লক নেতৃত্ব। অপরদিকে রামকৃষ্ণ ঘোষ তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কোনো পদে না থেকে কেন তিনি এই ধরনের ঘোষণা করলেন সেই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
যদিও এই বিষয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি সন্দীপ বসু জানিয়েছেন, অনেকেই তাকে এই বিষয়ে ফোন করেছিলেন এবং সংবাদ মাধ্যমের কাছেই তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। কোনভাবেই কারখানায় কাজ বন্ধ করে কোনরকম সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান করা যাবে না। দলের কড়া নির্দেশ রয়েছে। যদি এই ধরনের কাজ হয়ে থাকে।তবে সেই বিষয়ে তিনি স্থানীয় নেতৃত্বদের কাছে বিষয়টি জানবেন।এবং বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকেও জানাবেন। অন্যদিকে রামকৃষ্ণ ঘোষের কমিটি ভাঙ্গার মন্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে। তিনি বলেন, তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের কোন পদে রামকৃষ্ণ ঘোষ নেই, অর্থাৎ শ্রমিক সংগঠনের বিষয়ে তিনি কোন রকম মন্তব্য করতে পারেন না বা কোনো কমিটি গঠন বা ভাঙার কথা বলতে পারেন না। যদি কোন মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি শ্রমিক সংগঠনের কমিটি ভেঙে ফেলার কথা বলে থাকেন। কেন বলেছেন তা তার জানা নেই।তবে এই কমিটি ভাঙার বিষয়ে বলার জন্য তিনি কাউকে কোনো অনুমতি দেন নি। এছাড়াও প্রাক্তন তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের ব্লক সভাপতি ইন্দ্রজিৎ কোনার এদিন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে না থাকার বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অনেকেরই নানান কাজ থাকে। সেই কারণে হয়তো তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। তবে দলের মধ্যে তাদের কোনরকম মনোমালিন্য নেই। সবাই একসাথেই পথ চলবে।



