হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ মৃত নার্সের পরিবারের, সঠিক তদন্তের দাবি
আমার কথা, ১৩ ফেব্রুয়ারী
তনুশ্রী চৌধুরী, কাঁকসা:
গত বুধবার রাত্রে কাঁকসার গোপালপুরে একটি বহুতল আবাসন থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় ২৪ বছর বয়সি কাঁকসার মলানদিঘী এলাকার একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী নার্সের। মৃতার নাম মন্দিরা পাল। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা।মলানদীঘির বেসরকারি হাসপাতালেই নার্সের চাকরি করতো সে।ঘটনার দিন আবাসনের ১০ তলা থেকে পড়ে গিয়েছে এমনটাই প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।খুন নাকি আত্মহত্যা,সেই নিয়েই রহস্যের দানা বাঁধে।পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেয়। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল ঘিরে রাখে কাঁকসা থানার পুলিশ। শুক্রবার কাঁকসা থানার পুলিশের কাছে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার বাবা সাগর পাল।
মৃতার বাবা সাগর পাল জানিয়েছেন, তার মেয়ে কখনই আত্মহত্যা করতে পারে না। মেয়ে সব সময় হাসিখুশি থাকতো। শেষবার সরস্বতী পুজোর সময় তার সাথে দেখা হয়েছিল। তারপর ফোনেই কথা হত।ঘটনার দিনও তার মায়ের সাথে কথা হয় ফোনে। মেয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তারা ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথেও কথা বলেছেন। কিন্তু কাঁকসা থানার পুলিশ ছাড়া কেউ তাদের সাহায্য করেনি। তাই কাঁকসা থানার পুলিশের উপর তাদের যথেষ্ট ভরসা রয়েছে। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক তদন্ত করে দোষীরা যাতে শাস্তি পায় কাঁকসা থানার পুলিশের কাছে সেই আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
মৃতার মাসতুতো ভাই নারায়ন দাস জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে তার বোনের সহকর্মীরা এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই তাদের কোনরকম সহযোগিতা করেনি। এমনকি তার সহকর্মীরাও তাদের সাথে কোন রকম যোগাযোগ বা তথ্য আদান-প্রদান করেনি এমনকি হাসপাতালেও কাউকে আসতে দেখা যায়নি।। তার অনুমান তার বোনের সহকর্মীদের সম্ভবত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভয় দেখিয়ে রেখেছে। যার কারণেই ভয়ে কেউ কথা বলেনি আর হাসপাতালেও শেষবারের মত দেখতে আসে নি।এছাড়াও যে বহুতল আবাসনে তার বোন এবং হাসপাতালের কর্মীদের রাখা হতো সেখানে ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বলেই অভিযোগ। কাঁকসা থানার পুলিশের কাছে তারা আবেদন জানিয়েছেন, তার বোনের মৃত্যুর ঘটনার যাতে সঠিক তদন্ত হয়। তাদের আশা কাঁকসা থানার পুলিশ এই ঘটনার সঠিক তদন্ত করে ঘটনার সত্য প্রকাশে আনবে।



