শ্রাবণ্যতে মহা সমারোহে বনমহোৎসবের সূচনা
আমার কথা, দুর্গাপুর, ২০ জুলাই:
পরিবেশ প্রকৃতি রক্ষায় তৎপর-প্রশাসন। শনিবার দুর্গাপুর নগণ বন শ্রাবণ্যতে তারই প্রমাণ মিলল। এদিন, শ্রাবণ্য-র সবুজ প্রাঙ্গণে মহাসমারোহে পালিত হল বন মহোৎসব। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রাম উন্নয়ন ও সমবায় দপ্তরের মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, দুর্গাপুর নগর নিগমের মুখ্য প্রশাসক অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়, এডিডিএ চেয়ারম্যান কবি দত্ত, বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, এস বি এস টি সি চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডল, জেলাশাসক এস পোন্নামবালাম, মহকুমাশাসক সৌরভ চট্টোপাধ্যায়, বন আধিকারিক বনাধিকারিক বিদ্যুৎ সরকার, অনুপম খান, রাহুল কুমার সহ অন্যান্যরা। শনিবার এই বনভূমির গাছগাছালির তথ্যভান্ডারের বিশেষ কিউ আর কোডের সূচনা সহ বৃক্ষরোপনের মাধ্যমে বন মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যের মন্ত্রী।
বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, পরিবেশ প্রকৃতির পাশাপাশি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও বনভূমির গুরুত্ব অপরিসীম। একই সঙ্গে রাজ্যের পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বনভূমির সুরক্ষায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান রাজ্যের পঞ্চায়েত, গ্রামোন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। এদিন এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর তরফে বন মহোৎসব সম্পর্কিত বিশেষ বার্তা পাঠ করেন ডিএফও দুর্গাপুর অনুপম খান। দুর্গাপুর নগর নিগম ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তরফে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন এডিডিএ চেয়ারম্যান কবি দত্ত। একইসঙ্গে বৃক্ষরোপনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আবেদন জানান তিনি। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতের সম্প্রসারণের কথা মাথায় রেখে বড় রাস্তা বা সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলার পক্ষে মত প্রকাশ করেন এডিডিএ চেয়ারম্যান। দুর্গাপুর নগর বন শ্রাবণ্যকে শিল্পাঞ্চলের ফুসফুস আখ্যা দিয়ে বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে রক্ষা করতে বৃক্ষরোপণ জরুরি। সেক্ষেত্রে প্রত্যেককে দশটি করে চারা গাছ লাগানোর পাশাপাশি তার রক্ষণাবেক্ষণের আহ্বান জানান তিনি। শনিবার এই অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর নগর নিগমের মুখ্য প্রশাসক অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় পরিবেশ রক্ষায় সবুজয়ানের পাশাপাশি জনমানসে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। একইসঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী স্কুল পড়ুয়াদের আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়। এদিন এই অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রকৃতি পরিবেশ রক্ষা, বনভূমি সংরক্ষণ সহ পশুপ্রাণী রক্ষায় কর্মকুশলতার স্বীকৃতি স্বরূপ দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সহ পরিবেশপ্রেমীদের সম্মান ও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। সোমনাথ মান্ডি, কালিপদ ঘোষ, অর্কজ্যোতি মুখোপাধ্যায়, শুভজিৎ সাহা, জগন্নাথ মন্ডল, লক্ষীরাম হেমব্রম, অরিন্দম চক্রবর্তী, চন্দন গুঁই সহ এ বছরের ‘বনবন্ধু’ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় উদ্যোক্তাদের তরফে। একইসঙ্গে এই অনুষ্ঠানে দুর্গাপুর নগর বন শ্রাবণ্যকে সাজিয়ে তোলার পাশাপাশি পরিবেশ প্রকৃতি রক্ষায় বিশেষ কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক ডঃ সৌরভ চট্টোপাধ্যায়কে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। শনিবার খনি শিল্পাঞ্চলে সবুজের সমারোহের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত পড়ুয়া সহ সকলের হাতে বিশেষ ‘সিড বল’ তুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে চড়াই পাখি রক্ষায় বিশেষ সুরক্ষিত বাসা বিলি করা হয় বিশিষ্টজনদের মধ্যে। এরই পাশাপাশি এই বনভূমিতে এডিডিএ-র তরফে একটি ওয়াচ টাওয়ার লাগানোর কথাও ঘোষণা করা হয় অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে। এদিন এই অনুষ্ঠানে গান সহ শ্রুতি নাটক পরিবেশন করেন বিধাননগর ও গোপাল মাঠ গার্লস হাই স্কুলের পড়ুয়ারা।



