গান্ধী মোড়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘হোর্ডিং’, রাজনৈতিক তরজা
আমার কথা, দুর্গাপুর, ১৮ জুলাই:
২০১৯ তারপর ২০২৫, ছয় বছর পর দুর্গাপুরে আসছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্যাপক উত্তেজনা শহর জুড়ে। এরই মাঝে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়ল এই শিল্পনগরীতে।
আর মাত্র কয়েক ঘন্টার অপেক্ষা, এর পরেই অন্ডালের কাজী নজরুল বিমানবন্দরে নামবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সেখান থেকে তিনি সড়ক পথে আসবেন গান্ধী মোড়ে। এরপর গান্ধী মোড় থেকে অঘোষিত রোড শো করার কথা রয়েছে। রোদ শো এর মধ্যে দিয়ে তিনি সোজা পৌঁছোবেন নেহেরু স্টেডিয়ামে। সেখানে করা হয়েছে দুটি মঞ্চ। প্রথম মঞ্চ থেকে তিনি কয়েকটি সরকারী প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। তারপর মূল মঞ্চ থেকে তিনি জনসভা করবে। প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচীকে ঘিরে শহর দুর্গাপুরে কয়েকদিন ধরেই র্যেছে উত্তেজনা। যেন সাজো সাজো রব পরে গেছে। বিজেপি নেতা কর্মীরা ইতিমধ্যেই ঢেলে সাজিয়েছে শহরকে। এখন তাঁদের অপেক্ষা সেই মাহেন্দ্রক্ষণের। কিন্তু তারই মাঝে ছন্দপতন ঘটল। যে জায়গা থেকে প্রধানমন্ত্রীর ড়ো শো শুরু হবে, সেই গান্ধী মোড়ে গান্ধী মূর্তির বিপরীতে বড় বড় ব্যানারে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লেখা রয়েছে, “ভাঁওতাবাজি সইবে না বাংলা, দুর্গাপুরের বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাগুলি খুলবে কবে, মোদি তুমি জবাব দাও”। তবে এই ব্যানারে কোথাও কোনো রাজনৈতিক দলের নাম লেখা নেই। তাই কে বা কারা এই ব্যানার লাগালো তা জানা যাচ্ছে না। এদিকে শহরে প্রধানমন্ত্রীর আসার আগের মুহূর্তে এই ধরনের ব্যানারে স্বভাবতই অস্বস্তিতে পড়েছে পদ্মশিবির।
এই ব্যানারের বিষয়ে বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “ওই হোর্ডিং দেখিয়ে লাভ নেই। মোদিজি মানুষের মনে আছে।” নাম না করে তিনি তৃণমুল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় তোলেন। বলে, “দলটা কতটা নিচে নেমে গেছে সেটা আমরা প্রতিদিনের ঘটনায় বোঝা যাচ্ছে। রাজ্যে যেভাবে খুন, ধর্ষণ হচ্ছে তাতে মানুষ বুঝে গেছে এটা কিসের দল।”
অগ্নিমিত্রা পালের এই বক্তব্যকে নস্যাৎ করে দিয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেন, “অগ্নিমিত্রা পালের কাছে ভদ্রতা শেখার নেই। এই কথাগুলো তো মোদিজিকে অপমান করা হয়নি। এই কথাগুলো দুর্গাপুরের মানুষের কথা। প্রস্নটা তো বাস্তব। প্রধানমন্ত্রীর কাছে দুর্গাপুরের মানুষ তো জানতে চাতেই পারেন। যদি দম থাকে মোদিজি বলে যাবেন কবে খুলবে কারখানাগুলি। আর যদি না বলতে পারেন তাহলে বুঝবো উনি আবার জুমলা করতে এসে ছিলেন।”



