“পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের নতুন কালচার তৈরি করেছে মমতা সরকার”-বিকাশরঞ্জন
আমার কথা, দুর্গাপুর, ১২ জুলাইঃ
রাজ্যে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনায় তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। সরব হয়েছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিরোধী দলগুলি। আর জি কর হাসপাতালের ঘটনা কিংবা সম্প্রতি কসবা আইন কলেজে ঘটে যাওয়া ঘটনায় এখনও সেভাবে নির্যাতিতারা বিচার পায়নি। দুর্গাপুরে এসে সেই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন সারা ভারত আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচাৰ্য। তিনি বলেন, “যে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী ধর্ষিতাদের রেটচার্ট বেধে দেন, সেই রাজ্যে ধর্ষকরা তো অপরাধ করতে উৎসাহী হবেই। তাই তো আজকাল কলেজ, হাসপাতাল এসবের ভেতরে ধর্ষণ হয়। পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের একটা নতুন কালচার তৈরি করেছে মমতা সরকার”। তাই এই ধর্ষণের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হিসেবে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য নিদান দেন ‘জনগণের পিটুনি’, ‘জনগণের পিটুনিটাই একমাত্র দরকার এখন’।
সারা ভারত আইনজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা, সংবিধান রক্ষা ও সুশাসনের দাবিতে দুদিন (১২ ও ১৩ জুলাই) ব্যাপী রাজ্য কাউন্সিল সভার আয়োজন করা হয়েছে দুর্গাপুরের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহে। এই অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আইনজীবীরা অংশ গ্রহণ করেন। প্রথমদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে বিকাশবাবু আরো বলেন, “তৃণমূল মনোনয়ন চায়, কিন্তু নির্বাচণ চায় না। কারন ওরা যাদের মনোনীত করছে তারাই ওদের মনটাকে প্রতিফলিত করবে। দুর্গাপুরে মহিলা কো-অপারেটিভ ব্যাংকের নির্বাচন তার বড় প্রমান। ঠিক তেমনই এরা ডাক্তারদের ইউনিয়ন চায় না, পুলিশদের ইউনিয়ন চায় না। ওরা একটা মনোনীত কমিটি তৈরি করছে, তারাই সমস্ত কিছু চালায়।”
অন্যদিকে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য্য এর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন তৃণমূলের পশ্চিম বর্ধমান জেলার মুখপাত্র উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “উনি একজন যে আইনজীবী সেটা তিনি ভুলে গেছেন। একজন আইনজীবী কি করে এই ধরণে আইন বিরুদ্ধ কথা বলেন? কি করে জনগণকে আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার নিদান দেন? কলকাতায় ওনার এসব কথা শোনার লোক নেই, তাই দুর্গাপুরে এসে এসব বলছেন। কিন্তু এখানেও এসব কথা কেউ পাত্তা দেবে না”।



