BREAKING! মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু
আমার কথা, দুর্গাপুর, ২৬ এপ্রিলঃ
দুপুর দেড়টা বাজে। স্কুল ছুটি হয়ে গেছে। বন্ধুরা সব একে একে বাড়ি চলে যাচ্ছে। রিম্পা অপেক্ষা করছে তাঁর মায়ের জন্য। প্রতিদিন মা আসে রিম্পাকে স্কুল থেকে নিতে। আজও আসার কথা। এদিকে সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। কই মা তো আসছে না। মা তো কোনোদিন এত দেরী করে না। রিম্পা গেল স্কুলের বড়দিদি মনির কাছে। বলল মা আমাকে এখনো নিতে এলো না তো। স্কুল থেকে রিম্পার মায়ের কাছে ফোন করা হল। মোবাইলটি বেজে বেজে থেমে গেল। সকলে ভাবলেন হয়ত রাস্তায় আছেন, আর ফোন ধরতে পারছেন না। হয়ত এখুনি ভলে আসবেন। কিন্তু অনেকটা দেরি হয়ে গেছে। এবার রিম্পার বাবাকে ফোন করা হল। রিম্পার বাবা তখন জানালেন মর্মান্তিক ঘটনাটির কথা। রিম্পার মা স্কুটি নিয়ে বেরিয়েছিলেন মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে। কিন্তু পথেই সব শেষ।
বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটির বাসিন্দা শম্পা টিকাইত(৩৪) স্বামীর কর্মসুত্রে দুর্গাপুরের কোকওভেন থানার অন্তর্গত রায়ডাঙ্গায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন। শম্পাদেবীর মেয়ে রাইরানী দেবী গার্লস হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়াশুনা করে। শম্পাদেবীর স্বামী একটি বেসরকারী কারখানায় কর্মরত। শনিবার দুপুর ১টা নাগাদ নিজের স্কুটিতে করে মেয়েকে স্কুল থেকে আনতে যাচ্ছিলেন শম্পাদেবী। বাঁকুড়া মোড়ের কাছে তিনি যখন আসেন তখন ওভারব্রিজ থেকে একটি ডাম্পার বেশ দ্রুত গতিতে নিচে নামতে গিয়ে শম্পাদেবীর স্কুটিতে ধাক্কা মারে। ধাক্কা মেরে ডাম্পারটি শম্পাদেবীকে সহ স্কুটিটিকে ছেঁচড়ে বেশ কিছুটা নিয়ে যায় বলে প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানান। পরে স্থানীয়দের চেঁচামেচিতে ডাম্পার ফেলে চম্পট দেয় চালক ও খালাসী। শম্পাদেবীর মাথাতেও হেলমেট ছিল না বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এদিকে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে কোকওভেন থানার পুলিশ গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় শম্পাদেবীকে উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক শম্পাদেবীকে পরীক্ষা করে মৃত বলে জানান। এদিকে পুলিশ ঘাতক ডাম্পারটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। চালক ও খালাসীর খোঁজ চলছে।



