নয়া কায়দায় অবৈধভাবে বালি পাচার চলছে গলসিতে
আমার কথা, বুদবুদ গলসী, ২ জুন:
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা শুধুই সার। তারই প্রমান মিললো আরো একবার। নিচুস্তরের প্রশাসন ও নেতাদের একাংশের মদতে রাজ্যজুড়ে অবৈধভাবে নদীগর্ভ থেকে বালি পাচার চলছে প্রকাশ্য দিবালোকে তারই প্রমাণ মিললো আরও একবার গলসি ও বুদবুদ এলাকায়। গলসিতে স্টকের চালান দেখিয়ে দামোদর নদের বুক থেকে বালি পাচার চলছে অবাধে। অন্য জেলার চালান চালাচ্ছে ব্যবসায়ীরা। চলছে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বালি পাচার। আবার বুদবুদ এলাকায় ট্রাক্টরে করে চলছে বেআইনিভাবে বালি পাচার। প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই চলছে বালি পাচার গলসি ১নম্বর ব্লক জুড়ে।
প্রকাশ্য দিবালোকে বালি চুরির ঘটনা বিভিন্ন নদীতে রাজ্যের, প্রায়শয় সেই ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেলেও, গলসির ঘটনা অবাক করে দেওয়ার মত। নয়া কায়দায় দিবারাত্রি প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে
রীতিমতো অবৈধভাবে বালি পাচার চলছে পূর্ব বর্ধমানের গলসি থানার অন্তর্গত গলসি ১ নম্বর ব্লকের বাবলা তলা ঘাট থেকে খাঁ পাড়া সহ বিভিন্ন ঘাটে এমনটাই অভিযোগ।অন্যদিকে ট্রাক্টরে করে দেদার চলছে বালি পাচার গলসি ১নম্বর ব্লকে।
অভিযোগ পার্শ্ববর্তী জেলা বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের পাত্রসায়ের থানার অন্তর্গত
দেউলপাড়া মৌজার অন্তর্গত নদীঘাটের স্টক ক্লিয়ারেন্সের বৈধ চালানকে ব্যবহার করে পূর্ব বর্ধমান জেলার এপারের ঘাটে বাবলাতলা ঘাট দিয়ে বালি পাচার করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়,মেয়াদ উত্তীর্ণ, বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী থানার অন্তর্গত পালসৌরা মৌজার নদী ঘাটের সরকারি চালান দেখিয়ে চলছে এই বালি পাচার কারবার।
অবৈধভাবে ব্যবহার করে পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি থানার অন্তর্গত ঘাট গুলি দিয়ে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে পাচার করা হচ্ছে বালি।
অন্যদিকে বুদবুদ এলাকায় সালডাঙ্গায় চালান ছাড়াই চলছে বালি পাচার। যা স্বীকার করে নিয়েছেন ট্রাক্টর চালকরা।
ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়ে গলসি এক নম্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি জনার্ধন চ্যাটার্জি জানিয়েছেন,এই বিষয়ে তার কাছে খবর এসেছে।ইতিমধ্যেই তিনি বিষয়টি জেলা সভাধিপতি কে কাছে জানিয়েছেন। শুধু তাই নয় পার্শ্ববর্তী জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের সঙ্গেও এই জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারকে জানানোর আর্জি জানিয়েছেন যাতে এই অবৈধভাবে বালি পাচারের রমরমা বন্ধ হয়।পাশাপাশি তিনি জানান এই রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে যেভাবে অবৈধভাবে বালি পাচার চলছে তাতে যে রাস্তা দিয়ে বালি যাচ্ছে রাস্তাগুলির অবস্থা শোচনীয় হয়ে উঠছে। এই রাজস্ব সরকারের কাছে এলে এই রাস্তা গুলিকে আরো ঢেলে উন্নত করা যেত।
যদিও এই বালি পাচার নিয়ে তোপ দেগেছে বিরোধী দল বিজেপি। বর্ধমান সদরের বিজেপির জেলা সহ সভাপতি রমণ শর্মা জানান, প্রশাসন এবং শাসকদলের একাংশ নেতাদের মদতে দিনের পর দিন এই ভাবেই বালি পাচার সংঘটিত হচ্ছে।কোনো কিছুই হবে না।লুটেদের সরকার চলছে।
পূর্ব বর্ধমানের জেলা সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বিষয়টি প্রশাসনিক স্তরে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।




