দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী আসছেন ধর্মের নামে বিভাজন করতে- সায়নী
আমার কথা, পানাগড়, ১৭ জুলাইঃ
একুশে জুলাই এর সমর্থনে পানাগড়ে সভা এবং মিছিলে যোগ দেন তৃণমূলের রাজ্য যুব সভানেত্রী সায়নী ঘোষ, এদিন পানাগড়ের দার্জিলিং মোড় থেকে গুরুদুয়ারা পর্যন্ত মিছিল করেন তিনি। মিছিল শেষে গুরুদুয়ারার সামনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।। এদিন মিছিল ও সভায় উপস্থিত ছিলেন সায়নী ঘোষ ছাড়াও রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, ছিলেন জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূলের জেলা ও কাঁকসা ব্লক নেতৃত্ব।এদিন মিছিলে কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক যোগ দিয়েছিলেন।
সায়নী বলেন দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী আসছেন তাকে স্বাগত। তবে মানুষের কষ্টের টাকা নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই। ২৬ সালের নির্বাচন অবধি বাংলায় থেকে যাক। কারণ ভোট আসলেই তো ডেলি প্যাসেঞ্জা্রী শুরু হয়ে যাবে বিজেপি নেতাদের। তৃণমূল ময়দানে আছে তারা সব সময় প্রস্তুত, ২৬ এর নির্বাচনে খেলা হবে। বিজেপি কর্মীরা ২৬ এর নির্বাচনকে ঘিরে এবং প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আশায় যতই বুক বাঁধুক যে তারা রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে। বিজেপি কর্মীরা যে আশায় বুক বাঁধছে বাঁধুক। তবে তারা শুধু জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বাংলার মানুষ রয়েছে। বাংলার মানুষের হাত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর রয়েছে। তবে দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী আসছেন ঠিক কথা, তারাও শুনতে চান হিন্দু-মুসলিম, ভারত পাকিস্তান, এসব ছেড়ে হয়তো উন্নয়নের কথা বলবেন। কটা চাকরি হয়েছে, সেই কথা বলবেন, কটা স্কুল কলেজ, কটা হাসপাতাল হয়েছে সেই কথা বলবেন। কিন্তু তিনি তা না করে শুধু ধর্মের বিভাজন করে ভাষণ মেরে চলে যাবেন। বাংলা কে বঞ্চিত করে বাঙালি ও বাংলা ভাষাকে দিনের পর দিন অপমান করে কোন মুখ নিয়ে বাংলার মানুষের কাছে প্রধানমন্ত্রী আসছেন সেটাই আশ্চর্যের বিষয়। তবে নরেন্দ্র মোদী যতই বাংলায় ঘনঘন আসুক না কেনো। না পেট্রোলের দাম কমবে, না ডিজেলের দাম কমবে। চিত্রটা সেই একই থাকবে।
এদিন মঞ্চে উপস্থিত দলীয় কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি সকল ধর্মের মানুষদের সম্মান জানিয়ে বলেন বিজেপি শুধু ধর্মের বিভাজন করে। কিন্তু তারা সব ধরনের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে চলেন। এদিন মিছিল শেষে বিজেপির উদ্দেশ্যে মঞ্চ থেকে সারণী ঘোষ বলেন পানাগড়ে যে মিছিল হয়,এটা শুধু ট্রেলার, গোটা পিকচার হবে একুশে জুলাই এর সভায় । প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন আপনি শুধু মানকি বাত করেন দিদি শুধু কাম কি বাত করেন। এটাই হলো তফাৎ।
এদিন সভা মঞ্চ থেকে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন একুশে জুলাই এর সমর্থনে যে মিছিল এবং জনসমাগম হয় পানাগড়ে। সেই জনসমাগম সারা ভারতবর্ষের মানুষকে নিয়ে এসেও প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপুরের সভায় এত মানুষ করতে পারবেন না। এবছর একুশে জুলাই এর সভা ঐতিহাসিক সভায় পরিণত হবে। তার নমুনা পানাগড় বাজারের সভা এবং মিছিলের জনসমাগম দেখিয়ে দিয়েছে।
জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, সায়নী ঘোষ পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এসে পানাগড়ে মিছিল এবং সভাকে মাতিয়ে দিয়ে গিয়েছেন। দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রী আসছেন ঠিক কথা, কিন্তু নতুন কিছু কথা বলুক। নতুন কিছু করুক। দুর্গাপুরের বুকে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প গুলো খুলে দিক। নতুন শিল্প আনুক। জেলায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসুক। তার জন্য তাকে স্বাগত জানাতে তারা প্রস্তুত।



