‘রাম-বাম -ঘাসফুল’ দুর্গাপুরে সবার হাতিয়ার এখন ‘ধানের চারা’
আমার কথা, দুর্গাপুর, ২০জুলাইঃ
বেশ কিছুদিন ধরেই আকাশের মুখ ভার। মাস খানেক ধরে এমনিতে জাঁকিয়ে চলেছে বৃষ্টি। এখন আবার শুরু হয়েছে কখনো রোদ কখনো বৃষ্টি। আষাঢ় মাসের শেষ মানেই আমনের মরশুম শুরু। ফলে টানা বৃষ্টিতে চাষিদের মুখে কিছুটা হলেও হাসি ফুটেছে। শুধু চাষিরা কেন ২০২৬ কে পাখির চোখ করে আমনের চারা পুঁততে ময়দানে নেমেছে রাম থেকে বাম। বাদ যায়নি ঘাসফুলও।
কিন্তু ব্যাপারটা কী? আমনের চারা পুঁততে কেন এতো হুড়োহুড়ি?
গত ১৮ জুলাই দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার অধীনস্থ দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর নেহেরু স্টেডিয়ামে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সভার জন্য স্টেডিয়ামের মাঠটির অনেক অদল বদল করা হয়েছে। এদিকে সেই সময় এক নাগাড়ে বৃষ্টি ছিল যেন গোঁদের ওপর বিষ ফোঁড়া। ফলে কাদা জলে মাঠের অবস্থা পুরো বেহাল। কোথাও প্যাঁচ প্যাঁচে কাদায় পা ডুবে যাচ্ছে তো কোথাও আবার জল জমে একাকার। এমতবস্থায় সভার পরের দিনই অর্থাৎ শনিবার স্টেডিয়ামের মাঠে জমে থাকা জলের মধ্যে ধানের চার রোপন করে প্রতিবাদ জানান পান্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক তথা জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, শহরের মধ্যে এমন অনেক মাঠ আছে যেখানে বিজেপি প্রধানমন্ত্রীর এই সভার ব্যবস্থা করতে পারতো। কিন্তু তা না করে শহরের অতি পুরোনো ও ঐতিহ্যশালী নেহেরু স্টেডিয়ামের এই খেলার মাঠটির দফারফা করে দিলো বিজেপি। অতি সত্বর মাঠটিকে পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবিও জানান নরেনবাবু।
এরপরের দিনই অর্থাৎ আজ রবিবার সকালে বিধাননগরের বিভিন্ন জায়গায় একইভাবে প্রতিবাদে রাস্তায় নামলো পদ্মশিবিরের নেতা কর্মীরা। ২৭নং ওয়ার্ডের মার্টিন লুথার সরণীর রাস্তার অবস্থা বেহাল। রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে খানালখন্দে ভরে গেছে আর টানা বৃষ্টিপাতের জেরে নিকাশি নালার জল উপছে সেই সব খানাখন্দে জমে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এদিকে গুরুত্বপূর্ন এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন স্কুল কলেজের পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষের যাতায়াত দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে। এই অভিযোগ তুলে এদিন বিজেপি নেতা অমিতাভ বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব বিজেপি কর্মীরা ওই খানাখন্দে কচু গাছ ও ধানের চারা রোপন করে বিক্ষোভ দেখান।
এরপর বেলা ১২টা ২০ নাগাদ ২৪নং ওয়ার্ডের সূর্যসেন সরণীর রাস্তাতেও কচু ও ধানের চারা রোপন করে প্রতিবাদ জানানো হয়, আর এই প্রতিবাদ কর্মসূচী নেওয়া হয় বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি চন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তা বেহাল দশা। বৃষ্টির জল জমে রাস্তার অবস্থা এতটাই খারাপ যে পথচারী থেকে বাইক আরোহী দুর্ঘটনা কবলে পড়ছে প্রতিনিয়ত।
তবে এসবেরও আগে চলতি মাসের ১৬ তারিখে ২৭নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত একটি বেসরকারী হাসপাতালের সামনের রাস্তার ভগ্নদশা নিয়ে সরব হন বামেরা। সেদিন তাঁরাও ওই রাস্তার ভাঙ্গা অংশে জমা জলে ধানের চারা রোপন করে প্রতিবাদ জানিয়ে ছিলেন।
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে শহর দুর্গাপুরে উন্নয়ণের রাজনৈতিক লড়াই লড়তে বেছে নিচ্ছে চারা রোপনের হাতিয়ারকে। এই রাজনৈতিক সত্বার পাশাপাশি শাসক-বিরোধী নেতাদের এই কৃষক সত্বা কি আদৌ সাধারণ মানুষের উন্নয়ণে কোনো কাজে লাগবে, নাকি সবটাই ছেলে ভোলানো গল্প হয়েই থেকে যাবে? প্রশ্ন তুলছেন শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের মানুষজনের একাংশ।



