সৌমিত্র-সুজাতা বিবাদ তুঙ্গে, দুর্নীতির অভিযোগে তীব্র রাজনৈতিক রেষারেষি
আমার কথা, বাঁকুড়া, ৫ মেঃ
সংবাদদাতাঃ দেবনাথ মোদক
একসময়ের দাম্পত্য সম্পর্ক এখন বিষাক্ত রাজনৈতিক সংঘাতে রূপ নিয়েছে। বিষ্ণুপুর লোকসভার বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী এবং বর্তমান তৃণমূল নেত্রী সুজাতা মণ্ডলের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগ এনে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। রবিবার বিজেপির জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে ফাইল হাতে তুলে সুজাতার বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন সাংসদ।
সৌমিত্র খাঁর অভিযোগ, “শ্যামবাজারের এক স্কুলের শিক্ষিকা হয়েও প্রায় ছ’বছর স্কুলে না গিয়ে বেতন তুলে নিচ্ছেন সুজাতা। জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে ৭০ শতাংশ কাটমানির কারবারে জড়িত তিনি।” চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়া, বছরে তিনবার বিদেশ সফর সবই তাঁর মতে দুর্নীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত। রাজ্যের শিক্ষা দফতর ও প্রশাসনের কাছে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মানহানি মামলা করার কথাও জানান তিনি।
তবে এই অভিযোগে একেবারে পাল্টা আক্রমণে সরব হন সুজাতা মণ্ডল। তিনি বলেন, “একজন পাগল ছাগল সমতুল্য অপান্তেয় ব্যক্তির কথায় সাড়া দিয়ে সময় নষ্ট করি না। উনি যে স্কুলের কথা বলছেন, তার সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন কোনও সম্পর্কেই নেই।”
তিনি আরও বলেন, “উচ্চমাধ্যমিকে থার্ড ডিভিশনের কারণে উনি আইনের ন্যূনতম ধারণাও রাখেন না। সারাদিন লাল পানীয় গিলে কি আর পড়াশোনা হয় ?”
সুজাতা বলেন, “বালি চোর, কয়লা চোর এবং রেপ কেসের আসামি যিনি, তিনি আমাকে সততা শেখাবেন ? প্রমাণ করুক, আমি বছরে তিনবার বিদেশ গেছি।”
সংবিধানের আর্টিকেল ১৯-এর অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে সুজাতা পাল্টা মানহানি মামলার হুঁশিয়ারিও দেন, যদিও কটাক্ষ করে বলেন, “যার মান, সম্মান, ইজ্জত কিছুই নেই, তার বিরুদ্ধে কী মামলা করব ?”
এই ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সংঘাত নতুন করে বাঁকুড়ার রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। অনেকেই একে “নোংরা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি” বলে অভিহিত করছেন।



