হাইকোর্টের নির্দেশকে উপেক্ষা, দুর্গাপুরের সরকারী কলেজে কি করলেন টিএমসিপির সদস্যরা?
আমার কথা, দুর্গাপুর, ৪ জুলাইঃ
হাইকোর্টের নির্দেশ, বন্ধ রাখতে হবে রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন কার্যালয়গুলি। কিন্তু সকাল হতেই সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বহাল তবিয়তে খুলে রাখা হয়েছে দুর্গাপুর গভর্মেন্ট কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিয়ন রুম। নিখিত কোনো নির্দেশ আসেনি বলে খুলে রাখা হয়েছে বলে জানানো হল ইউনিয়নের পক্ষ থেকে।
রাজ্যের সমস্ত কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিয়ন রুম যাতে বন্ধ রাখা হয়, এই মর্মে নির্দেশ জারি করতে উচ্চশিক্ষা দফতরকে বৃহস্পতিবার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এ দিন মামলাকারীর তরফে এই আবেদন করা হয়েছিল। তিনি কারণ হিসেবে জানিয়েছিলেন, উচ্চশিক্ষা দফতর আগে একটি মামলায় হলফনামা দিয়ে জানিয়েছিল, রাজ্যের কোনও কলেজে ছাত্র নির্বাচন হয়নি। ফলে সেখানে কোনও স্টুডেন্ট কাউন্সিলও নেই। তাই সব কলেজে ইউনিয়ন রুম খোলা থাকার কোনও কারণ নেই।
হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে-র ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের অনুমতি ছাড়া ইউনিয়নের রুম খোলা যাবে না। তবে এই নির্দেশ সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজের জন্য প্রযোজ্য নয়। কবে ছাত্র নির্বাচন হবে, তা জানতে রাজ্যের হলফনামা তলব আদালতের। আগামী ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে রাজ্যকে। উল্লেখ্য, কসবার ল’ কলেজে গণধর্ষণের ঘটনার পর ছাত্রভোট নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় এদিন তাৎপর্যপূর্ণ নির্দেশ দেন বিচারপতি সৌমেন সেন।
কিন্তু শুক্রবার সকালে দুর্গাপুর গভর্মেন্ট কলেজে গিয়ে দেখা যায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যরা বহাল তবিয়তের আদালতের নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে ইউনিয়ন রুম খুলে রেখেছেন। কিন্তু কেন তাঁরা আদালত অবমাননা করছেন? উত্তরে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সম্পাদক শুভজ্যোতি মজুমদার জানান, “কোনো নির্দেশ অবমাননা করা হয়নি। হাইকোর্ট উচ্চশিক্ষা দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে কলেজকে কিংবা কলেজের পক্ষ থেকে আমাদের কোনো ইউনিয়ন রুম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়নি। তাই আমরা খুলে রেখেছি। যদি আমাদের কাছে এরকম কোনো নির্দেশ আসে, তাহলে আমরা অবশ্যই বন্ধ করে দেবো।”
বিজেপি নেতা চন্দ্রশেখর বন্দোপাধ্যায় বলেন, “সংবাদমাধ্যমগুলি থেকে খবর পেলাম দুর্গাপুর গভর্মেন্ট কলেজে ইউনিয়ন অফিস খোলা আর সেই অফিসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কারা যারা ছেলে মেয়ের বাবা হয়ে গেছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদকে বদনাম করার পরেও এরা ইউনিয়ন অফিসে গিয়ে বসছে। এদের কোনো লাজ লজ্জা নেই। হাইকোর্টের নির্দেশের পরেও এরা তা অমান্য করছে, তাই অবিলম্বে পুলিশের উচিত এদের গ্রেফতার করা”।
অপরদিকে, দুর্গাপুর গভর্মেন্ট কলেজের পক্ষ থেকে অধ্যাপক অশোক ভট্টাচার্য্য জানান, “আমাদের কাছে এরকম কোনো নির্দেশ এখনও আসেনি। আর তাছাড়া আমাদের কলেজের অধ্যক্ষ অসুস্থ। তার জায়গায় আমি কয়েকদিনের জন্য দায়িত্ব সামলাচ্ছি। আমার এক্তিয়ারে নেই এরকম কোনো নির্দেশকে বাস্তবায়ন করা”।



