পানীয় জলের দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ মহিলাদের
আমার কথা, ২১ ফেব্রুয়ারী
রাকেশ লাহা, রানীগঞ্জ:
বঙ্গে মোটামুটি শীতের বিদায়, বসন্ত পেড়োলেই প্রখর গ্রীষ্মের দাপট।
ঠিক তার আগে রানীগঞ্জের বাসিন্দাদের জাতীয় সড়ক অবরোধের মধ্য দিয়ে উঠে এলো খনি শহরে তীব্র জল সংকটের চিত্র।
প্রসঙ্গত শনিবার রানীগঞ্জের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমড়াসোতা এলাকার মহিলারা একত্রে ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে নেমে পানীয় জলের দাবিতে অবরোধ করল রাস্তা, তারা সকলে হাতে হাত রেখে অবরোধে নামে। মহিলাদের এই অভিনব কায়দায় বিক্ষোভ ও রনংদেহি মেজাজ দেখে রাস্তায় নেমে পড়ে পুরুষরাও। মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে যৌথ প্রতিবাদ যেন প্রমাণ করলো খনি অঞ্চল রানীগঞ্জ আজ তীব্র জল সংকটে ভুগছে।
বিক্ষোভ প্রসঙ্গে সুখেন বাউড়ি নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, দীর্ঘ এক বছর হতে চলল আমড়াসোতা গ্রামের চারিদিকে পাইপ পড়ে রয়েছে অথচ বাড়িতে বাড়িতে এখনো পৌঁছায়নি পানীয় জল। এছাড়াও জাতীয় সড়কের নিত্যদিনের দুর্ঘটনার কথাও তুলে ধরেন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুখেন বাউরী। তার কথাই যথাশীঘ্রই প্রশাসনকে গ্রামে পানীয় জলের বন্দোবস্ত করতে হবে ও দুর্ঘটনা এড়াতে জাতীয় সড়কে বাম্পার নির্মাণ করতে হবে।
অন্যদিকে বিক্ষোভকারী মহিলাদের মুখেও একটাই কথা। আমরা অন্য কিছুই চাই না, শুধুমাত্র তৃষ্ণা মেটানোর জন্য সামান্য পানীয় জল হলেই চলবে। রিনা বাউরী নামে এক মহিলা জানান, আমরা দিন আনা, দিন খাওয়া মানুষ, কিনে জল খাওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই ? এখন পানীয় জল সরবরাহ ঠিকমতো না হলে আমাদের অবস্থা সংকটজনক হয়ে উঠবে।
এদিন স্থানীয়দের বিক্ষোভের জেরে জাতীয় সড়কের উভয় পাশেই যানজটের সৃষ্টি হয় এবং ক্ষণিকের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা থমকে যায় । তবে ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রানীগঞ্জ থানার পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ির পুলিশ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জ্যোতি সিং। কাউন্সিলর এবং প্রশাসনের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ তুলে নিলে আবারো জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।



