এসএসসি দুর্নীতি! দুর্গাপুরে বেশ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকার হারালেন চাকরি
আমার কথা, দুর্গাপুর, ৩ মার্চঃ
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এই রাজ্যে চাকরী হারালেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা। দুর্গাপুরও এর ব্যাতিক্রম নয়। এসএসসি-র নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করার নির্দেশ দিলো সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায় সারা রাজ্যের সাথে দুর্গাপুরের বেশ কয়েকটি স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকার ওপর এই কোপ পড়ল। দুর্গাপুর নেপালী পাড়া হিন্দি হাই স্কুলের ৮ জন, জেমুয়া ভাদুবালা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪জন, বেনাচিতি হাই স্কুলের ৪জন, সগড়ভাঙ্গা হাই স্কুলের ৩জন, ভিড়িঙ্গী টিএন স্কুলের ২ জন, দুর্গাপুর প্রজেক্ট টাউনশিপ গার্লস স্কুলের ৩ জন, দুর্গাপুর গার্লস হাই স্কুল ৫ জন, দুর্গাপুর রাধারানী দেবী গার্লস হাই স্কুলের ৩জন তাঁদের চাকরী হারালেন।
প্রসঙ্গতঃ গত বছর এপ্রিল মাসে এসএসসি-র নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি মহম্মদ সব্বর রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশের সমস্ত নিয়োগ, অর্থাৎ ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। চাকরি যায় ২৫ হাজার ৭৫৩ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর। সেই রায়ই বহাল রইল সুপ্রিম কোর্টে।
চাকরি হারিয়ে ভেঙ্গে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। চাকরী হারানো নেপালীপাড়া হিন্দি হাই স্কুলের এক শিক্ষিকা সুনীতা মন্ডল বলেন, “আমাদের ভুলটা কোথায় ছিল। সমস্ত কিছু যাচাই করে তবেই চাকরীতে আমাদের নিয়োগ করা হয়েছিল। আমাদের যে চাকরী চলে গেল এবার আমরা কি করবো?”
নেপালীপাড়া হিন্দি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কলিমুল হক বলেন,”মহামান্য আদালতের রায় নিয়ে আমি কিছু বলছি না। তবে আমাদের স্কুলের ওপরে এতে কোপ পড়ল। মহামান্য আদালতের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ যারা যোগ্য তাঁদের চাকরী ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”
জেমুয়া ভাদুবালা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জইনুল হক বলেন, “যারা নিয়োগ দুর্নীতি করেছে এটা তাঁদের দোষ। তাঁদের না ধরে পুরো প্যানেলটাকেই বাতিল করে দেওয়া হল। এটা ঠিক না। এক্ষেত্রে সরকার ব্যর্থ। সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত”।



