সড়ক দুর্ঘটনায় প্রয়াত তৃণমুল কর্মীর পরিবারকে দলের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য
আমার কথা, কাঁকসা, ২৩ জুলাই:
প্রতি বছরের মত এবছরও ২১শে জুলাই উপলক্ষ্যে কলকাতার ধর্মতলায় শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে এলাকার তৃণমূল কর্মীদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন কাঁকসার বিদবিহার গ্রাম পঞ্চায়েতের দিহিবেতা গ্রামের বাসিন্দা তথা তৃণমূল কর্মী ৭৪ বছর বয়সী মধুসুধন পাল।ওই দিন গ্রাম থেকে বাসে করে ধর্মতলা গিয়েছিলেন তিনি। একুশে জুলাই শহীদ দিবসের অনুষ্ঠান শেষে বাসে চেপে বাড়ি ফেরার পথে তাদের বাসটি বর্ধমানের নবাবহাট এলাকায় 19 নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে বেশ কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়ায়। ওই সময় বাস থেকে নেমে সকলেই নবাব হাট এলাকার বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন একটি মিষ্টির দোকান থেকে মিষ্টি কেনে। সেখান থেকে বাসে চাপার উদ্দেশ্যে ফেরার সময়।১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক পারাপার করতে গিয়ে যাত্রীবাহী দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার দুর্গাপুরগামী একটি বাসের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মধুসূদন বাবুর। ঘটনার দিন তড়িঘড়ি, বর্ধমান থানার পুলিশ পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। মঙ্গলবার দেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলে। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো ফুলের তোড়া দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তৃণমূল কর্মীরা। এরপর দেহ কাঁকসায় তার গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের ছায়া নেমে আসে গোটা গ্রাম জুড়ে।সেখানে গ্রামের এবং ব্লকের তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বুধবার তার গ্রামের বাড়িতে যান তৃণমূল কর্মীরা। এদিন তার বৃদ্ধ বোন মালতি পালের হাতে দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার পক্ষ থেকে দু লক্ষ টাকার একটি চেক, এবং তৃণমূলের পক্ষ থেকে তিন লক্ষ টাকার একটি চেক তুলে দেওয়া হয়। এদিন দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থার চেয়ারম্যান সুভাষ মন্ডল সহ উপস্থিত ছিলেন পূর্ব বর্ধমান জেলার তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, উপস্থিত ছিলেন বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস, এছাড়াও ছিলেন কাঁকসা ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি নবকুমার সামন্ত সহ পূর্ব এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলার তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা।
কাঁকসা ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি নব কুমার সামন্ত জানিয়েছেন, ওই তৃণমূল কর্মী দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের সাথে যুক্ত ছিলেন। প্রতিবছর একুশে জুলাই তিনি বাসে করে কলকাতায় শহীদ দিবসের অনুষ্ঠানে যেতেন। তরুণ প্রজন্ম কে রীতিমত উৎসাহ দিতেন তিনি। সক্রিয় ভাবে দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি থাকতো। তার প্রয়াণে তার গোটা গ্রামের পাশাপাশি শোকোস্তব্ধ কাঁকসা ব্লকের তৃণমূল পরিবার। পেশায় তিনি একজন চাষী ছিলেন।তিনি অবিবাহিত থাকলেও তার বর্তমান পরিবারের হাতে ওই আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়। কারণ তৃণমূলের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল তার পরিবারের পাশে দল চিরকাল থাকবে। আর্থিক সাহায্য করার পাশাপাশি আগামী দিনে ও তার পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।



