একই বৃদ্ধার একাধিক জেলার ভোটার তালিকায় রয়েছে নাম, বিতর্ক
আমার কথা, সার্থক কুমার দে, পান্ডবেশ্বর, ২৩ নভেম্বর:
একাধিক বিধানসভার আলাদা আলাদা ৪৪ টি জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে পাণ্ডবেশ্বরের এক বৃদ্ধার। এই তথ্য সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। নির্বাচক কমিশনারের ত্রুটি নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোন কারণ তাই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে এসআইআর বা নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ। শুরু থেকেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা বিতর্ক। প্রকাশ্যে এসেছে নানা অসঙ্গতিও। এরকমই একটি অসঙ্গতি প্রকাশ্যে আসার পর পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভার ৪৪ টি জায়গায় ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে পাণ্ডবেশ্বরের বৈদ্যনাথপুর পঞ্চায়েতের ডিভিসি পাড়ার বাসিন্দা মায়ারানী গোস্বামী (৭০) নামে এক মহিলার। তিনি জানান স্বামী মারা গেছে, মেয়ে থাকে তার শ্বশুরবাড়িতে। পেট চালাতে তিনি অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করেন। বৈদ্যনাথপুর পঞ্চায়েতের ৪৭ নং পাটের (রাখালচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়) ভোটার তিনি। মায়ারানী দেবী বলেন এসআইআর এর যে ফর্ম তিনি পেয়েছেন সেই ফর্মের কিউআর কোড স্ক্যান করলে দেখা যাচ্ছে আলাদা আলাদা বিধানসভার ৪৪ টি জায়গার ভোটার তালিকায় তার নাম রয়েছে। প্রতিটি তালিকাতে ভোটারের জায়গায় মায়ারানী, স্বামীর নামের জায়গায় গৌড় নামটি থাকলেও পদবী ও এপিক নম্বর আলাদা আলাদা রয়েছে। তিনি বলেন আমি যে ৪৪টি জায়গার ভোটার ! সেটা আমার জানা ছিল না । কিভাবে এটা হল সেটাও বুঝতে পারছি না বলে জানান তিনি।
মায়ারানী দেবীর একাধিক জায়গায় নাম থাকার তথ্য সামনে আসতেই বিষয়টিতে নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি, লক্ষণ ঘুড়ুই-রা বলেন এ সবই তৃণমূলের কারসাজি। এইসব ভুয়ো ভোটারদের নাম তালিকায় রেখেই তৃণমূল এতদিন ভোটে জিতে আসছে বলে কটাক্ষ করেন তারা। বৈদ্যনাথপুর এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি রবিন পাল বলেন এটা সম্পূর্ণ নির্বাচক কমিশনার গাফিলতি। এরকম হয়ে থাকলে এর দায় কমিশনের। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক তরজার পাশাপাশি স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। ভোটারদের একাংশের বক্তব্য ২০০২ সাল ও ২০২৫ সালের প্রকাশিত ভোটার তালিকায় প্রচুর অসঙ্গতি রয়েছে। এটা কমিশনের গাফিলতি! নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোন কারণ? বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত বলে বক্তব্য তাদের।



