২৬-এর নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত”— শতাব্দী
আমার কথা, তনুশ্রী চৌধুরী, আউশগ্রাম, ২১ ডিসেম্বর:
“২৬-এর ভোটে আমরাই জিতব, সেটা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। ভীষণভাবে জিতব, অনেক বেশি ভোটে জিতব”— এমনই দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করলেন বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শতাব্দী রায়।
রবিবার পূর্ব বর্ধমান জেলার আউসগ্রাম-২ ব্লকে ব্লক সভাপতি আব্দুল লালনের উদ্যোগে আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপুল ব্যবধানে জয়ের আশা প্রকাশ করেন।
এদিন এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন শতাব্দী রায়। তিনি বলেন, “এসআইআর-এর আতঙ্কে কোথাও নাম না থাকা, কোথাও তথ্যের ভুলের কারণে বহু মানুষ চরম মানসিক চাপে পড়েছেন। এমনকি কেউ কেউ আত্মঘাতীও হয়েছেন। আত্মহত্যার আগে সুইসাইড নোট পর্যন্ত লিখে গেছেন অনেকে। আমরা কমিশনের কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু দিল্লির সরকার বা কমিশন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি”।
পাশাপাশি শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় যাওয়ার পথে ট্রেনের ধাক্কায় তিনজন বিজেপি কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার প্রশংসা করেন শতাব্দী রায়। তিনি বলেন, “বিরোধী দলের কর্মী হলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে প্রতিনিধি পাঠিয়েছেন, এই সৌজন্যতাবোধ সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন মানবিকতা সকলের মধ্যেই থাকা প্রয়োজন”।
মরহুম হালিম হালিমা স্মৃতির উদ্দেশ্যে যে নক আউট ফুটবল প্রতিযোগিতাটি শুরু হয়েছিল।রবিবার তার চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলা অনুষ্ঠিত হয় আউশগ্রামের গেঁড়াই ফুটবল ময়দানে।চূড়ান্ত পর্যায়ে খেলায় প্রধান অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শতাব্দী রায় ও সাংসদ অসিত মাল। খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সিমনোরী মেঘা ট্রেডার্স বনাম বর্ধমান কাজল একাদশ রায়না। সেখ আবদুল লালন পরিচালিত এই ফুটবল প্রতিযোগিতা ও দাতা লালন মেলায় অংশগ্রহণ করেন হাজার হাজার মানুষ। মহিলা ঢাকি,আদিবাসী নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও রাত্রে বিচিত্রানুষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য উপস্থিত থাকবেন অভিনেতা দেব।সাংসদ তথা চলচ্চিত্র নায়ক দেবকে দেখতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে বিকাল থেকেই। এস,এম,ডি পরিচালিত এই প্রতিযোগিতায় রাসবিহারী হালদার সহ পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি গার্গী নাহা ও বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে এই ফুটবল প্রতিযোগিতাটি স্বার্থক হয়ে ওঠে। পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে ফুটবল প্রতিযোগিতার শুভ সূচনা করা হয় এদিন।এদিন চূড়ান্ত পর্যায়ের খেলায় ট্রাইবেকারে ৫-০ গোলে জয়ী হয় বর্ধমানের রায়না কাজল একাদশ।এদিন পুরস্কার হিসেবে জয়ী দলকে ১লক্ষ ৬৬হাজার ৬৬৬ টাকার চেক ও ট্রফি এবং রানার্স দলকে ১লক্ষ ২২হাজার ২২২টাকার চেক ও ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।এদিন খেলা ও অনুষ্ঠান দেখতে মাঠে ফুটবল প্রেমী মানুষদের ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মত।



