“ফ্লাইওভার না হলে একটিও ভোট নয়”- পানাগড়ে পোস্টার গ্রামবাসীদের
আমার কথা, ৭ মার্চ
তনুশ্রী চৌধুরী, কাঁকসা:
সামনেই বিধানসভা নির্বাচন।আর এই নির্বাচনের আগেই বড় সিদ্ধান্ত নিলো পানাগড়ের রেলপারের বাসিন্দারা ও প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ।গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা হলো পানাগড় বাজারের রেল গেট।কারণ এই রেল গেট অতিক্রম করতে গেলে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয় এলাকার মানুষকে।রেল গেট পার করে স্কুল কলেজ বা অফিস কাচারীতে যেতে গেলে দীর্ঘক্ষণ রেল গেটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় সকলকে।একবার রেলগেট পরে গেলে দীর্ঘ লম্বা যানজটের সৃষ্টি হয়।দীর্ঘক্ষণ ধরে রেল গেট বন্ধ থাকার কারণে রেল গেটে আটকে পড়ে এমব্যুলেন্স সহ রোগীর গাড়ি।অনেকে রোগী রেল গেটে আটকে পড়ার কারণে সময়ে হাসপাতালে না পৌঁছাতে পেরে রাস্তাতেই মৃত্যু হয়েছে।ফ্লাইওভারের দাবিতে বহুবার স্থানীয়রা আন্দোলন করেছেন।কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নি।গত বারের সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া আস্বাস দিয়েছিলেন তিনি ফ্লাই ওভার নির্মাণের ব্যবস্থা করবেন।রেল দফতর কে এই বিষয়ে তিনি জানিয়েছিলেন।কিন্তু কিছুই হয় নি।বর্তমান সাংসদ কীর্তি আজাদ ঝাঁ এসেও পরিদর্শন করে আস্বাস দিয়েছেন।তার পরেও কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা না যাওয়ায়। দীর্ঘদিনের এই নরক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে এবার ফ্লাই ওভার না হলে ভোট দান থেকে বিরত থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পানাগড়ের রেলপার,ট্যাঙ্কি তলা, সারদা পল্লী,কাঁকসার আনন্দপুর,সিলামপুর, আয়মা,কেটেন সহ প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ।শনিবার সকাল থেকে সমস্ত গ্রামের মোড়ে পোস্টার দিয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন গ্রামের মানুষ।
গ্রামের মানুষদের এই সিদ্ধান্ত কে সমর্থন জানিয়েছেন কাঁকসা ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি পুরব ব্যানার্জি,তিনি জানিয়েছেন,সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাধারণ মানুষ।ভোটের আগে অনেক আস্বাস মেলে কিন্তু ভোটের পর আর তা কার্যকর হয় না।এবার তাই ফ্লাইওভার না হলে কোনো রকম ভোট না।দেশের প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কথা বলছেন।কিন্তু সেই ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় পানাগড়ের মানুষ রেল গেটে আটকে মারা যাচ্ছে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি তথা জেলা পরিষদের সদস্য তথা রেল পাড়ের বাসিন্দা সমীর বিশ্বাস জানিয়েছেন,সমস্যার বিষয়ে তারা অবগত রয়েছেন।এই বিষয়ে বর্ধমান দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কীর্তি আজাদ ঝাঁ যখন আস্বাস দিয়েছেন তখন নিশ্চই তিনি এই বিষয়টা নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।পানাগড় স্টেশন সংলগ্ন ৩নম্বর রেল গেটের উপর ফ্লাইওভার নির্মাণ হলে অনেক মানুষ উপকৃত হবে।
যদিও এই বিষয়ে বর্ধমান সদরের বিজেপির জেলা সহ সভাপতি রমন শর্মা জানিয়েছেন,সামনেই নির্বাচন তাই এই ইস্যুকে নিয়ে বিজেপির নাম বদনাম করার একটা চেষ্টা চালানো হোচ্ছে।সাধারণ মানুষ কে পিছন থেকে শাসক দল উসকিয়ে এই কাজ করাচ্ছে।বিজেপির সাংসদ আলুওয়ালিয়া প্রথম সাংসদ যিনি ফ্লাই ওভারের জন্য রেলের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন।হাওড়া থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে পশ্চিম বঙ্গ ছাড়া আর কোথাও রেলগেট আছে বলে তার মনে হয় না।সমস্ত রাজ্যে ফ্লাই ওভার নির্মাণ হয়ে গেছে কিন্তু বাংলায় হয় নি।কারণ এখানে জমি জট রয়েছে।রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণ করে দিতে পারছে না।তাই বাংলার ও পানাগড়ের মানুষ কে বিজেপি কে সমর্থন করার দাবি জানিয়েছেন।বাংলায় বিজেপি আসলে সমস্ত জায়গায় রেল গেটে ফ্লাইওভার নির্মাণ খুব দ্রুত হবে বলে তার দাবি।




