দুর্গাপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপিত
আমার কথা, ৮মার্চ
প্রণয় রায়, দুর্গাপুর:
১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সুতাকল কর্মী নারীরা পুরুষদের সঙ্গে তাদের মজুরি বৈষম্য ও কর্মক্ষেত্রে অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে মালিক পক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন। তাদের সেই আন্দোলন থামিয়ে দিলেও তার প্রভাব চলতেই থাকে। ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী নিউইয়র্কে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত হয় সমাবেশে জার্মান তান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিন এর নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৯১০ সাকে ডেনমার্কের কোপেনহগেনে সম্মেলনের দ্বিতীয় বছরে ঠিক হয় প্রতিবছর ৮ই মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা হবে।
এরপর প্রতিবছর বিক্ষিপ্তভাবে নারী দিবস পালন শুরু করা হলেও জাতিসংঘ ১৯৭৫ সাল থেকে প্রতিবছর ৭ মার্চ দিনটিকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
নারী আন্দোলন শুরুর পর কতদিন, কত বছর কেটে গেল কিন্তু নারীরা আজ ও ভালো নেই।বললেন উপস্থিত কবি ও শিল্পীরা। শিল্প সাহিত্য পরিবার এডিসন রোডের মেজর পার্কে আয়োজন করলো বসন্ত উৎসব ও আন্তর্জাতিক নারী দিবস।
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জেমুয়া ভাদুয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক
জইনুল হক বললেন বাংলা আমার মাতৃভাষা।আমি গর্বিত আমি বাঙালি বাঙালী। আমি ধর্ম মানিনা, নাস্তিকতায় বিশ্বাস করি।বাংলা ভাষা আমার মাতৃভাষা বাংলা ভাষা আমার প্রাণ আমি বিশ্বাস করি মানবতা। বিশ্বাস করি মানব সম্প্রীতি।
নারী দিবসকে স্মরণ করে
গৌতম রায়ের কাব্য গ্রন্থ সাদা কলম ছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হল এই অনুষ্ঠানে।গৌতম তার প্রকাশিত গ্রন্থটি আমাকে দিলেন। চোখট আটকে গেল তার একটি কবিতায় আমাকে সূর্যত্ব দাও খোদাই করি অজন্তা ইলোরা ভাস্কর্য। কিংবা কংসের কারাগার নয় গোকুল হোক অভিমুখ রোজ রোজ রবি রোদে ধুয়ে যাক আমাদের অযোধ্যার আপার ড্যামের অমিত জল। আহা কি সুন্দর কথার ব্যঞ্জনা। পুরো কাব্যগ্রন্থটি পড়ার খিদে বাড়িয়ে দিল।
সুদেষ্ণা বঙ্গবাস গাইলেন গুরুদেব রবীন্দ্রনাথের তেরোশো পঁচিশ বঙ্গাব্দে লেখা বেহাগ বাউল রাগে আকাশ জুড়ে শুনিনু ওই বাজে তোমারি নাম সকল তারার মাঝে। তারকাজ্জ্বোল রাত না হলে ও রৌদ্রজ্বল সকালে গাছগাছালির ফাঁকে সূর্যদেব চিকচিক করে ক্রমশ একটু একটু করে প্রকট হচ্ছিলেন । আর সুদেষ্ণার কন্ঠ সবার মধ্যে
ছড়িয়ে দিল এক মুগ্ধতার রেশ।
প্রকাশিত হলো মায়েদের নিয়ে কবিদের লেখা কবিতা গ্রন্থ মা। গ্রন্থটি উৎসর্গ করা হলো শিল্প সাহিত্য পত্রিকার পরিবারের সম্মানীয় এক মা স্মিতা ঘোষকে।
নারী দিবস এর তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য রাখলেন সাহিত্যিক পূর্ণচন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
বাচিক শিল্পী কাকলি রায় বললো নারী দিবসে সম্মানিত হতে সবার ই ভালো লাগে।
নারী দিবসের সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে সম্বর্ধিত করা হল সাহিত্যিক সংহিতা মিত্র, দশ বছর বয়সী মিস ইন্ডিয়া আরোহী চ্যাটার্জি।এবার ও জয়পুরে অনুষ্ঠিত ফ্যাশন প্রতিযোগিতায় মিস ইন্ডিয়া উপাধি পেয়েছে ওর বিভাগে শ্রেষ্ঠ স্থান লাভ করে। জেমুয়া ভাদুবালা বিদ্যালয়ের ছাত্রী স্নেহা পারভীন পেল তার বিদ্যালয়ে অসাধারণ আল্পনা ও স্কুলের দেওয়াল চিত্রণের জন্য বিশেষ নারী সম্মান।
ভাষা সেবক সম্মান পেলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্র সাহিত্য বিশেষজ্ঞ ও প্রাক্তন অধ্যাপক শ্রী সন্তোষ কুমার বিশ্বাস।
ভাষা সৈনিক সম্মান পেলেন সাহিত্যিক সনত বন্দ্যোপাধ্যায় ।সন্তোষ বিশ্বাস বললেন ভাষা সেবক সম্মান পেয়ে তিনি আপ্লুত।
পৃথিবীর রূপ রস ফটিয়ে তোলে ভাষা।
বাংলা ভাষা হল বিজ্ঞান ভিত্তিক ভাষা বললেন সনত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় ।
শ্রেষ্ঠ নারী সম্মান পেয়ে সম্মানিত দীপান্বিতা সেনগুপ্ত বলল সবার আশীর্বাদ নিয়ে আগামীদিনে চলচ্চিত্র নির্দেশনা ও অভিনয় ক্ষেত্রে সাফল্যের পথ ধরে আরো অনেক পথ এগিয়ে যাওয়াই ওর লক্ষ্য। দেশের অঙ্গন ছেড়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাবে এই আশা রাখে।
আরোহী বলল ও আরো এগিয়ে যেতে চায়। এগিয়ে যাবার মত দৃঢ় প্রত্যয় ওর আছে।
বক্তব্য রাখলেন সংহিতা মিত্র।
কবি সাহিত্যিক ও অস্তুরাগ পত্রিকার সম্পাদক শ্রী সুনীতিপ্রসাদ মন্ডল বললেন তিনি যতটা লিখতে ভালোবাসেন তার চেয়ে পড়তে বেশী ভালবাসেন। অস্তরাগ পত্রিকার সম্পাদনার মধ্যে দিয়ে তিনি আরও বেশি সাহিত্যিককে সাহিত্যের অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রী রাজীব ঘাঁটি।
শিল্পী সাহিত্য পরিবারের সভাপতি শ্রী সুকমল ঘোষ জানান এটা খুব আনন্দের বিষয় আজকাল মহিলারা পুরুষদের থেকেও সাহিত্য অঙ্গনে আরো বেশি বেশি এগিয়ে আসছেন। তা সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো শিল্প সাহিত্য পত্রিকা পরিবারের
আশি শতাংশ সদস্যাই হলেন মহিলা।
নারী দিবসের এ সম্মান গুলো প্রদান করেছেন কবি ও সাহিত্যিক সোনালী দাস বকশি তার প্রয়াত আত্মীয়ার স্মৃতিতে। কভিদের সময় তার আত্মীয়া প্রয়াত হন।তারই স্মৃতিতে তিনি প্রতিবছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসে শিল্প সাহিত্য পরিবারের অনুষ্ঠানে এই অঞ্চলের বিভিন্ন নারীদের যারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সমাজে প্রতিষ্ঠিত তাদের তার পক্ষ থেকে শিল্প সাহিত্য পত্রিকা পরিবারের এই অনুষ্ঠানে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোমনাথ শান্ডিল্য। মনে পড়ে ঝাঁঝরা কোলিয়ারি ছাড়িয়ে বেশ কিছুটা এগিয়ে এক ঝিরঝির করে বয়ে চলা ছোট্ট নদীর পারে গোঁসাইবাগানে বেশ গা ছমছম করা নির্জন পরিবেশে এক আদিবাসী গ্রামে আমি বার দুই ওনার বিশেষ সাহিত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছি।
এরপর চলতে থাকে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার কবিদের স্বরচিত কবিতা পাঠ ও মাঝে মাঝে গান।
অনুষ্ঠানটি অসাধারণ সঞ্চালনার সুতোয় বেঁধে রাখে শিল্প সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক শ্রী রাজিব ঘাঁটি।




