শিল্পাঞ্চলে উত্তপ্ততার মাঝে সৌজ্যনতার রাজনীতি
আমার কথা, ২ এপ্রিল
সনাতন গড়াই, দুর্গাপুর:
মনোনয়ন পর্বকে ঘিরে যখন উত্তেজনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় এক অন্যরকম সৌজন্য ও মানবিকতার ছবি ধরা পড়ল শহরের বুকে। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ, আলাদা দল এবং আসন্ন নির্বাচনী লড়াই সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে মন্দির প্রাঙ্গণে মুখোমুখি হয়ে সৌজন্য বিনিময় করলেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার এবং দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুই এই দুই নেতার এমন আচরণ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করেছে। দুর্গাপুরের ভিড়িঙ্গি শ্মশান কালী মন্দিরে মনোনয়নের আগে আশীর্বাদ নিতে বহু প্রার্থী ও সমর্থকরা যখন মন্দিরে ভিড় জমাচ্ছেন, সেই সময়ই এই আকস্মিক সাক্ষাৎ ঘটে। সাধারণত রাজনৈতিক ময়দানে একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শোনা গেলেও, এদিন সেই সবকিছু থেকে অনেক দূরে থেকে দুই নেতা একে অপরকে দেখে এগিয়ে আসেন, হাত মেলান এবং সংক্ষিপ্ত সৌজন্য কথোপকথনে অংশ নেন।এই ঘটনাকে ঘিরে মন্দির চত্বরে উপস্থিত মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। অনেকেই এই দৃশ্যকে “রাজনীতির বাইরে মানুষের সম্পর্কের প্রতিফলন” হিসেবে দেখেছেন। একদিকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অন্যদিকে পারস্পরিক সম্মান এই দুইয়ের সমন্বয় খুব একটা দেখা যায় না বলেই এমন ঘটনা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এ প্রসঙ্গে তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার জানান, “আমি প্রতি শনিবার এই মন্দিরে পুজো দিতে আসি। আজ যদিও বৃহস্পতিবার, তবুও মনোনয়নের আগে মায়ের আশীর্বাদ নিতে এসেছিলাম। এখানে এসে লক্ষণবাবুর সঙ্গে দেখা হয়ে যায়। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমরা একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছি।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, এই সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ অনিয়োজিত এবং সৌজন্যবশতই হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুইও একইভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “বিধানসভায় আমাদের মধ্যে প্রায়ই দেখা হয়। আজ পুজো দিতে এসে আবার দেখা হয়ে গেল। আমরা সকলের মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা করেছি। প্রদীপবাবুর সঙ্গে দেখা হওয়ায় হাত মিলিয়েছি, এটা একেবারেই সৌজন্যের বিষয়।”




