জাতীয় স্তরে আদিবাদী ফুটবল প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়ী ঋত্বিককে সম্বর্ধনা গ্রামেরই প্রাক্তন ফুটবলারদের
আমার কথা, ৭ এপ্রিল:
রাকেশ লাহা, জামুরিয়া:
জাতীয় ট্রাইবাল স্তরের স্বর্ণপদক জয়ী পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর থানার শ্যামলা অঞ্চলের ছত্রিশ গন্ডার বাসিন্দা গোলরক্ষক ঋত্বিক হাঁসদা কে শুভেচ্ছা জানালেন গ্রামরই প্রাক্তন ফুটবলার রা।
পশ্চিম বর্ধমানের জামুরিয়া, সেই জামুরিয়া বিধানসভারই শ্যামলা অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রাম ছত্রিশগন্ডা, আর সেই গ্রামেরই তীলকা পাড়ার আদিবাসী পরিবারের সন্তান ঋত্বিক হাঁসদা।
ছোটবেলা থেকেই যার ফুটবলের প্রতি ঝোঁক ছিলব্যাপক। ঋত্বিকের পরিবার থেকে জানা যায়, কম বয়স থেকে পড়াশোনার চেয়ে অধিক মনোযোগ দিয়েছিল ফুটবলকেই। আর খেলার প্রতি তার এই মনোযোগই আজ তাকে এনে দিল স্বর্ণপদক।
তার এই জয়ে গর্বিত হল রাজ্য, জেলা, অঞ্চল সহ নিজের গ্রাম এবং ঋত্বিকের পরিবার। আর তার এই সাফল্যে তাকে শুভেচ্ছা এবং অনুপ্রেরণা যোগাতে ছত্রিশ গন্ডা গ্রামেরই বাসিন্দা তথা প্রাক্তন ফুটবলার মিঠুন বাদ্যকর, টিংকু বাদ্যকর ও সুজয় বাদ্যকরদের উদ্যোগে গ্রামের আরো অনেক প্রাক্তন ফুটবলাররা ঋত্বিকের বাড়িতে গিয়ে তাকে মেমেন্টো ফুলের তোড়া এবং মিষ্টিমুখ করিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
প্রসঙ্গে বছর ২৫ এর ঋত্বিক জানাই, ছোট থেকেই তার ফুটবলের প্রতি একটা নেশা ছিল। গোলরক্ষক হিসেবে খেলতেই পছন্দ করতাম। বর্তমানে হুগলির উত্তরপাড়া নেতাজি ব্রিগেডে আমার প্র্যাকটিস চলত। আর সেখান থেকেই জাতীয় ট্রাইবাল স্তরের ফুটবল প্রতিযোগিতায় বাংলার হয়ে গোলরক্ষক হিসেবে খেলার সুযোগ পায়।
গত ৩রা এপ্রিল ২০২৬ রায়পুরে অনুষ্ঠিত জাতীয় ট্রাইবাল স্তরের ফুটবল ফাইনালে ছত্রিশগড়ের মুখোমুখি হয় বাংলা। সেখানেই আমি আমার পারদর্শিতা তুলে ধরি এবং বাংলার মুকুটে স্বর্ণপদক নিয়ে আসি। আমার ইচ্ছা আগামী দিনে বাংলা তথা দেশের মুখ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আরো উজ্জ্বল করে তুলবো। সে আরো জানাই, আমার এই জয়ে আমার গ্রাম খুবই খুশি।
গ্রামের দাদারা যারা দীর্ঘদিন ধরে ফুটবলের সাথে যুক্ত তারা এসে আমাকে শুভেচ্ছা জানালো আমি খুবই খুশি হলাম।
অন্যদিকে এই নিয়ে প্রাক্তন ফুটবলার তথা আসানসোল সাব ডিভিশনের রেফারি হিসেবে কর্মরত ৩৬ গন্ডা গ্রামের বাসিন্দা অভিজিৎ বাদ্যকর(মিঠুন) জানান , আমি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাঠে ঋত্বিকের খেলা দেখেছি। খেলার প্রতি তার ভালোবাসা, নিয়ম মেনে চলা এছাড়াও মনোযোগ সমস্ত কিছুই তার মধ্যে রয়েছে।
আজ তার এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। গর্বিত আমাদের বাংলা, আমাদের জেলা। তিনি জানান পশ্চিম বর্ধমান জেলার পাণ্ডবেশ্বর থানার শ্যামলা অঞ্চলের ৩৬গন্ডা গ্রাম ফুটবলের মাটি, প্রত্যন্ত এই গ্রামের ছেলে গ্রামের মাঠে খেলে জাতীয় স্তরে গ্রামের নাম যেভাবে উজ্জ্বল করল তাতে আমরা খুবই খুশি।
এছাড়াও তিনি আরো জানান, এতদিন গোল্ড মেডেল জয়ী খেলোয়ারদের ফোনেই দেখেছি, আজ সেই মেডেল জয় করে এনেছে আমাদের গ্রামের ছেলে এর থেকে গর্বের ব্যাপার আর কিছুই হতে পারে না।
আমরা চাইবো আগামী দিনে ঋত্বিক আরো ভালো ভাবে নিজেকে তৈরি করে দেশের জার্সি গায়ে দিয়ে বাংলার পাশাপাশি দেশের নামও উজ্জ্বল করুক।
আমরা আমাদের গ্রামের পক্ষ থেকে তার পাশে সর্বদা রয়েছি।




