আদিবাসী উন্নয়নে বড় ঘোষণা! হুল দিবসে একাধিক প্রকল্পের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
আমার কথা, ৩০ জুন
দেবনাথ মোদক, বাঁকুড়া:
বাঁকুড়ার হুল দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । সেই অনুষ্ঠান থেকেই আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন, শিক্ষা, পরিকাঠামো এবং জঙ্গলমহলের অগ্রগতি নিয়ে একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি পূর্বতন রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন।
হুল দিবসের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আদিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এবার সরকারি ভাবে হুল দিবস পালন করার সুযোগ পেয়েছে বিজেপি এর সরকার। জল-জমি-অধিকারের যে লড়াই তা প্রতিষ্ঠিত হোক। কেউ দেয়নি আপনাদের স্বীকৃতি, অটলজি স্বীকৃতি দিয়েছেন। আমরা চাই আপনারা নিচে নয়, আপনারা আমাদের পাশে বসুন। আপনারাও বিকশিত ভারত গড়তে এগিয়ে আসুন। আমাদের এই মন্ত্রীসভায় একাধিক আদিবাসী নেতাকে মন্ত্রী করেছি যাতে আপনাদের উন্নয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়”।
এরপর আগের সরকারের আমলে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। এমনকি পূর্বতন সরকারের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে করা অপমানের প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “বিগত সরকারের আমলে আপনাদের এখানে কোনও কর্মসূচি করতে দেয়নি। একলব্য স্কুলের জন্য জমি দেয়নি। দ্রৌপদি মুর্মুকে অপমান করেছে তৃণমূল সরকার।”
ডবল ইঞ্জিন সরকারের অধীনে আদিবাসীদের জন্য গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্প ও আর্থিক সুবিধার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী দিনে কৃষি, উদ্যানপালন, ছাত্রছাত্রীদের ভাতা এবং পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে আরও জোর দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের অনেক কর্মসূচি আমরা চালু করেছি। অগাস্ট মাস থেকে এর সুফল পাবেন। কৃষি ও উদ্যান পালনে আরও কিভাবে উন্নয়ন করা যায় সেটা আমরা দেখছি। আপনাদের যে ভাতা জয় জোহার ভাতা রয়েছে তাতে আরও ৫০০ টাকা বাড়িয়েছি। আদিবাসী এলাকার উন্নয়ন এর জন্য ৩৫০ কোটি টাকা এর প্যাকেজ দিয়েছি। যারা হোস্টেল এ থাকেন আদিবাসী ছাত্ররা তাদের খাদ্য ভাতা ৩৩০০ টাকা করা হয়েছে। আদিবাসীদের সংরক্ষণ দিত না পূর্বতন সরকার। হাজার হাজার ভুয়ো এসসি-এসটি সার্টিফিকেট দিয়েছে। দফতর তদন্ত করছে। যিনি দিয়েছেন ও যিনি নিয়েছেন দুজনকেই জেলে ভরব। আদিবাসী দের নাম ভুয়ো সার্টিফিকেট দিতে দেব না। পশ্চিমঞ্চল দফতর এ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী একটা টাকা ও দেয়নি। আমরা এবারে ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। এই জঙ্গল মহল এর ৭২টি ব্লকে ব্যাপক উন্নয়ন হবে”।
এছাড়াও জঙ্গলমহলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং পর্যটন শিল্পের প্রসার নিয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বিশেষ করে মুকুটমণিপুরকে আরও উন্নত পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আশ্বাস দেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “জামশেদপুর ও দুর্গাপুরকে ২০০ কিলোমিটার রাস্তায় যুক্ত করা যায়। আমি জেলাশাসককে বলেছি ওই জায়গাতে পশ্চিমঞ্চল উন্নয়ন দফতরের টাকায় এই জায়গায় হসপিটাল করে দেব। মুকুটমণিপুর একটি আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র। এখানে পরিকাঠামো আরও উন্নয়ন দরকার। আমরা এটা করব।” হুল দিবসের এই কর্মসূচিতে বক্তব্যের মাধ্যমে আদিবাসী সমাজের উন্নয়ন, শিক্ষা, সংরক্ষণ, পরিকাঠামো এবং জঙ্গলমহলের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।



