জেমুয়ায় ‘গন্ধে’ লাগলো নির্বাচনের রঙ
আমার কথা, ২৯ মার্চ
সনাতন গড়াই, দুর্গাপুর:
“দুর্গাপুরের দুর্গন্ধ জেমুয়ার মানুষ কেন সহ্য করবে, আমার বিধানসভার মানুষ দুর্গন্ধ কেন সহ্য করবে? ভোটের পরে আমরা বসবো”।
“ভোটের আগে দুর্গাপুরে টিকিট পাব ভেবে, দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রশংসা করছিল। এখন পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল প্রার্থী হয়ে দুর্গাপুর নগর নিগমের বদনাম করছে” পাল্টা কটাক্ষ করলেন পাণ্ডবেশ্বর এর বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারি।
পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার জেমুয়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। জেমুয়া এলাকায় রয়েছে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্কাশন কেন্দ্র। সেই কেন্দ্রের দূষনে গোটা এলাকার মানুষ জর্জরিত। একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে, একাধিকবার প্রতিবাদ হয়েছে। সেইখানেই দুর্গাপুর নগর নিগমের ওয়ার্ড গুলির বর্জ্য জমা হয়। একাধিক অত্যাধুনিক মানেএর বিদেশি যন্ত্রও ওখানে আনা হয়েছে। দূষণ কাটানোর জন্য প্রচেষ্টাও শুরু করেছিল দুর্গাপুর নগর নিগম। কয়েক মাস আগে এক কোটিরও বেশি টাকা ব্যয় করে ওই বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্কাশন কেন্দ্রের প্রাচীরের উদ্বোধন করেছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত গ্রাম উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারকে সঙ্গে নিয়ে আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান কবি দত্ত। কিন্তু স্থানীয়দের সমস্যার সমাধান তারপরেও হয়নি। এবার ওই বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ ও নিষ্কাশন কেন্দ্রেই লাগলো রাজনৈতিক রং। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে গিয়ে স্থানীয়দের কাছে সেই সমস্যার কথা শুনতেই পাণ্ডবেশ্বর তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী কড়া বার্তা দিলেন। তিনি সাফ জানালেন, “দুর্গাপুরের আবর্জনার গন্ধ জেমুয়া কেন সহ্য করবে, আমার বিধানসভার মানুষ কেন গন্ধ সহ্য করবে? নির্বাচনের পরে বসব।” কটাক্ষ করে পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, “দুর্গাপুরের তো উনি বড় নেতা। এখন এইসব কথা বললে হবে। উনি তো এতদিন ভেবেছিলেন দুর্গাপুরের টিকিট পাবেন সেই জন্য দুর্গাপুরের প্রশংসা করতেন। এখন দুর্গাপুরে টিকিট না পেয়ে এইসব কথা বলছেন। এইসব কথার কোন দাম নেই।”
দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারপার্সেন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়ের দাবি,”আগামী দিনে আর কোন গন্ধ থাকবে না। ইতিমধ্যেই একটি বেসরকারি সংস্থাকে বরাত দেওয়া হয়েছে। ওরা সব বর্জ্য সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে।”
এ বিষয়ে দুর্গাপুর পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী তথা এডিডিএ এর চেয়ারম্যান কবি দত্তের দাবি,”যিনি এই কথা বলেছেন তিনি না জেনে বুঝে বলেছেন। কিন্তু ওনার আলোচনা করার পর এই কথা বলা উচিত ছিল। কারণ আগামী দিনে ওইখানে আর গন্ধ থাকবে না সুগন্ধ ছড়াবে।”
তবে বিধানসভা নির্বাচন শেষ হলে কি আদৌ মিটবে দীর্ঘদিনের গন্ধ, নাকি নির্বাচনের ঝাঁঝ কাটলে আবার মানুষকে ঝাঁজালো গন্ধ সহ্য করতে হবে? সেটাই এখন দেখার।




