জগন্নাথের প্রসাদ নিয়ে দুর্গাপুরে শুভেন্দুর চাঞ্চল্যকর সাম্প্রদায়িক মন্তব্যে বিতর্ক
আমার কথা, দুর্গাপুর, ২০ জুন:
দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ তৈরি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য জুড়ে সরব হয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। এবার দুর্গাপুরে এসে সেই বিতর্ক আরো উস্কে দিয়ে গেলেন গেলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। জগন্নাথের প্রসাদে মেশানো হচ্ছে হালাল মিষ্টি বলে দাবি করলেন শুভেন্দু, আর তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় পড়ে যায় শিল্পাঞ্চল রাজনীতিতে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রথযাত্রার আগে রাজ্যবাসীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দীঘার জগন্নাথ মন্দিরের প্রসাদ। দুয়ারে রেশন প্রকল্পে রেশন দোকানের মাধ্যমে বিলি করা শুরু হয়েছে এই প্রসাদ। ইতিমধ্যেই এই প্রসাদ তৈরী নিয়ে বিতর্ক চলছে রাজ্যে। বিজেপি দাবি করছে স্থানীয় দোকানের মিষ্টিকে মন্দিরের প্রসাদ বলে চালানোর চেষ্টা চলছে। এবার আরো এক ধাপ এগিয়ে সেই বিতর্কে ঘৃতাহুতি দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সারা রাজ্য জুড়ে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করলো ভারতীয় জনতা পার্টি। এদিন আসানসোলে এক বিশাল পদযাত্রা বের হয়, সেই পদযাত্রার অগ্রভাগে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন কলকাতা থেকে আসানসোল যাওয়ার পথে তিনি দুর্গাপুরে মুচিপাড়ায় দলীয় কর্মীদের সাথেও পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপন করেন। পরে একটি সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন, “জগন্নাথের প্রসাদে দেওয়া হচ্ছে হালাল মিষ্টি”। তিনি আরো বলেন, ” মুর্শিদাবাদের রানীনগরে বিশেষ সম্প্রদায়ের দোকানে জগন্নাথের প্রসাদের জন্য হালাল মিষ্টি প্যাকেট তৈরী করা হচ্ছে। সেই প্রসাদ না নিলে রেশন বন্ধ করার কথাও জানানো হচ্ছে”।
বিরোধী দলনেতার এহেন মন্তব্যের তীব্র বিরোধীতা করেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ভি শিবদাসন দাশু। তিনি বলেন, “শুভেন্দু বিজেপি যোগ দেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত্য একটা নির্বাচনেও বিজেপিকে যেতাতে পারেনি। উনি দেখছেন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে উন্নয়ণ করে চলেছেন তাতে আগামী বিধানসভা ভোটেও বিজেপি কিচ্ছু করতে পারবে না। তাই এখন এভাবে হিন্দু মুসলিম বিভাজন করে রাজ্যে অস্থিরতা তৈরী করে দু চারটে ভোট পেতে চাইছেন শুভেন্দু। কিন্তু তাতে কোনো ফল হবে না”।
এদিন দুর্গাপুরে পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টি দিবসে শুভেন্দু অধিকারীর সাথে উপস্থিত ছিলেন, বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা, বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই, সভাপতি রমন শর্মা, আসানসোলের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল সহ আরো অনেকে।




