দাম বাড়লো রান্নার গ্যাসের, মাথায় হাত গৃহস্থের, সংকটে পথ দেখাচ্ছে গোবর গ্যাস
আমার কথা, ৭ মার্চ
সনাতন গরাই, কাঁকসা:
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল হয়ে উঠছে। আর সেই অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বিশ্বের বড় বড় শক্তিধর দেশগুলিও এই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে, ফলে তৈরি হয়েছে জ্বালানির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। সেই প্রভাব থেকে বাদ যাচ্ছে না ভারতও। ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় কার্যত মাথায় হাত পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বহু মানুষ। এই পরিস্থিতিতে আবার নতুন করে সামনে আসছে গ্রামবাংলার পুরনো গোবর গ্যাস। গ্রামাঞ্চলে যেখানে এখনও বহু বাড়িতে গরু রয়েছে, সেখানে সেই গরুর গোবর থেকেই তৈরি করা হচ্ছে বিকল্প জ্বালানি। পরিবেশবান্ধব এই ব্যবস্থাই এখন অনেক পরিবারের কাছে বড় স্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা ব্লকের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গোপালপুর পশ্চিমপাড়ায় এমনই এক উদ্যোগ নজর কেড়েছে। সেখানে নিজের বাড়িতেই গোবর গ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করেছেন ক্ষেত্রনাথ গড়াই। বাড়িতে রয়েছে বেশ কয়েকটি গরু, আর সেই গরুর গোবর থেকেই তৈরি হচ্ছে রান্নার গ্যাস। বাড়ির পাশেই তৈরি করা হয়েছে একটি গোবর গ্যাস প্ল্যান্ট। সেই প্ল্যান্ট থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি রান্নাঘরে পৌঁছে যাচ্ছে গ্যাস। আর সেই গ্যাসেই প্রতিদিন রান্না হচ্ছে পরিবারের খাবার।বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়া এবং পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে যখন সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের খরচ বাড়ছে, তখন ক্ষেত্রনাথ গড়াইয়ের এই উদ্যোগ অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে তাঁর পরিবারকে। একইসঙ্গে এই ব্যবস্থা পরিবেশের পক্ষেও উপকারী। ক্ষেত্রনাথ গরাই জানান, বাড়িতে থাকা গরুর গোবর নষ্ট না করে তা কাজে লাগানোর চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া। প্রথমে ছোট আকারে শুরু হলেও এখন তা নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং পরিবারের রান্নার বেশিরভাগ কাজই এই গ্যাসে হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি এই উদ্যোগে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তাহলে এই প্রকল্পকে আরও বড় আকারে গড়ে তোলা সম্ভব। তাতে শুধু তাঁদের পরিবার নয়, আশপাশের বহু পরিবারও এই সুবিধা পেতে পারে।
বিধান গরাই বলেন, “আমাদের বাড়িতে কয়েকটা গরু আছে। সেই গরুর গোবর দিয়েই আমরা এই গোবর গ্যাস তৈরি করেছি। গরুর খাবার রান্না হয় আমাদেরও ভাত, ডাল রুটি সবই রান্না হয়। ব্যয় কম আগুন লাগারও সম্ভাবনা কম। কিন্তু সরকারি সহায়তা পেলে ভালো করা করা সম্ভব হবে।”




