রাস্তায় নোংরা ফেললেই জরিমানা, ঝাড়ু হাতে পথে নেমে কড়া বার্তা মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের
আমার কথা, ১৬ জুন
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখতে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। রাস্তাঘাট, বাসস্ট্যান্ড কিংবা জনবহুল এলাকায় যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা বা পানের পিক ফেলার বিরুদ্ধে শুরু হতে চলেছে কঠোর নজরদারি। আর সেই বার্তাই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে মঙ্গলবার সকালে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঝাড়ু হাতে রাস্তায় নামলেন রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। নির্মল বন্ধু-নির্মল সাথীদের নিয়ে এদিন বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা শাসক পন্নামবলাম এস, দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম, নগর উন্নয়ন দপ্তরের একাধিক আধিকারিক এবং নির্মল বাংলার সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা। সকাল থেকেই সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন মন্ত্রী। নিজেই ঝাড়ু হাতে একাধিক দোকানের সামনে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করেন। পাশাপাশি দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আবেদন জানান। শুধু তাই নয়, বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন কয়েকটি গ্যারেজেও যান তিনি। সেখানে কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, রাস্তা বা নর্দমায় বর্জ্য ফেলা চলবে না। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে সকলকেই সচেতন হতে হবে।
এদিন বাসচালক ও পরিবহণ কর্মীদেরও সতর্ক করেন মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বাসের জানালা দিয়ে বা রাস্তায় পানের পিক, প্লাস্টিক, বোতল কিংবা অন্য কোনও আবর্জনা ফেললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি জানান। কর্মসূচির মাঝেই অতীতের নির্মল বাংলা প্রকল্প নিয়েও সরব হন মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে ‘মিশন নির্মল বাংলা’ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছিল। সেই সময় বাড়ি বাড়ি যে বালতি দেওয়ার কথা ছিল, তা নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ফলে অনেক জায়গায় প্রকল্প কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে। এদিন জেলা শাসক ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দ্রুততার সঙ্গে নতুন করে বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহের বালতি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে উৎস স্তরেই বর্জ্য পৃথকীকরণ ও সংগ্রহের কাজ সুষ্ঠুভাবে করা যায়। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আমাদের সরকার শহর ও গ্রামকে নির্মল ও পরিচ্ছন্ন রাখতে বদ্ধপরিকর। নির্মল বন্ধু ও নির্মল সাথীরা অত্যন্ত ভালো কাজ করছেন। আমরা চাই সাধারণ মানুষও এই কাজে অংশ নিন। ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় কেউ নোংরা ফেললে বা পানের পিক ছিটালে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা সঙ্গে সঙ্গে তার ছবি তুলবেন। সেই প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জরিমানার নোটিস সরাসরি তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যাবে। পরিচ্ছন্ন বাংলা গড়তে আইনকে আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।”



