অভিনব উপায়ে রাস্তা চুরি? বিজেপি তৃণমূল তরজা
আমার কথা, কাঁকসা, ২ আগস্টঃ
পানাগড় সেনা ছাউনির জমির উপর তৈরি হবে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা।সেই রাস্তার বোর্ড বসানোকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। জানা গেছে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বুদবুদের কোটা মোড় থেকে আউশগ্রামের খান্ডারী গ্রাম হয়ে বলরামপুর পর্যন্ত প্রায় ৬.৮৭০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হবে। আর সেই রাস্তা তৈরি করতে গিয়েই দেখা দিয়েছে বিপত্তি। প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা ডিফেন্স ল্যান্ড এর মধ্যে থাকায় রাস্তার অনুমতি না মেলায় সেই রাস্তার কাজ বন্ধ রেখে, বাকি রাস্তার কাজ শুরু করে কোটা গ্রাম পঞ্চায়েত। কাজ শুরুর আগে কোটা গ্রামে ঢোকার মুখে কাজের বরাতেব বোর্ড বসানো কে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিজেপির অভিযোগ শাসক দল অভিনব ভাবে এক প্রকার রাস্তা চুরি করেছে। বিজেপি নেতা কৃষ্ণ দয়াল কর্মকারের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার প্রকল্পে যে রাস্তাটি তৈরি করা হচ্ছে। রাস্তার শুরুতে বোর্ড না বসিয়ে সেই বোর্ড প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে বসানো হয়েছে। তাদের অনুমান ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে কোটা গ্রামের রেলগেট পর্যন্ত রাস্তা তৈরি না করে সেই টাকা তছরূপ করেছে শাসক দল। এই বিষয়ে তারা কোটা গ্রাম পঞ্চায়েতে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
তার দাবি অবিলম্বে ওই রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। তা না হলে আগামী দিনে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অন্যদিকে বিজেপির তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে আউসগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি শেখ আবদুল লালন জানিয়েছেন। যে বিজেপি নেতা অভিযোগ জানাচ্ছেন, হয় তার মাথার ঠিক নেই, না হলে তিনি কোনো কিছু খেয়ে এইসব অভিযোগ তুলছেন, কারণ যে বোর্ড বসানো হয়েছে সেই বোর্ডে স্পষ্টভাবে কত কিলোমিটার রাস্তা কোথা থেকে কোথায় তৈরি হবে। সেনার অধীনে থাকা রাস্তার অনুমতি লিখিতভাবে না পাওয়া গেলেও মৌখিকভাবে অনুমতি নিয়ে তাদের জমির ওপর রাস্তা নির্মাণ করার প্রক্রিয়া চলছে। ওই টুকু অংশ সেনার অধীনে যে ঠিকাদার আছে সে কাজ করবে।কাজ শুরুর আগেই ঠিকাদারকে কাজের বরাতের টাকা দেওয়া হয় না। যে বিজেপি নেতা এই অভিযোগ করেছে তার এই বিষয়ে জেনে রাখা দরকার।। সবকিছু সম্পন্ন হলে শেষে যে বোর্ড বসানো হবে সেটাই চূড়ান্ত। তাতেই সব লেখা থাকবে।তার পরে যদি রাস্তা না হয় তখন অভিযোগ করবে।কাজের শুরুতে পাগলের মত অভিযোগ করার কোনো মানে হয় না।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এলাকার বাসিন্দাদের দাবি শাসক এবং বিরোধী দলের এই তরজার মধ্যে। সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। গত কয়েক বছর আগে পানাগড় সেনা ছাউনি ওই রাস্তা সহ সবই ঘিরে দিয়েছিল।গ্রামের মানুষের সমস্যা দেখে গ্রামবাসিদের আবেদনে সেনা আধিকারিকরা পরে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেয়।সেনার অধীনে থাকা জমির উপর কিভাবে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা তৈরি হয় সেই নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে সকলের। এছাড়াও আগামী দিনে যদি সেনা বাহিনী তারা তাদের জমি দখল নেয়, তবে রাস্তার কি হবে। সেনার অধীনে রাস্তা চলে গেলে যে টাকা রাস্তার ওপর খরচ করা হবে সেই টাকা পুরোটাই জলে চলে যাবে।



