পোষা কুকুরের বেল্ট দিয়ে স্ত্রীকে খুন, পাঁচ বছর পর যাবজ্জীবন সাজা
আমার কথা, ৮ মে
সনাতন গরাই, দুর্গাপুর:
পোষা কুকুরের বেল্ট দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে স্ত্রীকে খুন। পাঁচ বছর পর দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দিল দুর্গাপুর মহকুমা আদালত। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কাঁকসার আড়ার বেসরকারি হোটেল ম্যানেজমেন্ট কলেজের পাশের ফ্লাটে খুন হয় এক মহিলা।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, পশ্চিম বর্ধমান জেলার কাঁকসা থানার আড়া এলাকার একটি আবাসনে স্ত্রী ইপসা প্রিয়দর্শিনীর সঙ্গে ভাড়া থাকতেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার বিপ্লব পারিদা। আদতে ওড়িশার বাসিন্দা বিপ্লবের সঙ্গে ২০১৯ সালে দেখাশোনা করে বিয়ে হয় কটকের বাসিন্দা ইপসা প্রিয়দর্শিনীর। কর্মসূত্রে কাঁকসাতেই থাকতেন ওই দম্পতি। তদন্তে উঠে আসে, বিয়ের পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি লেগেই থাকত। ২০২১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাতেও দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। ধীরে ধীরে সেই অশান্তি চরমে পৌঁছয়। অভিযোগ, উত্তেজনার মাথায় পোষা কুকুরের বেল্ট দিয়ে স্ত্রীর গলায় ফাঁস লাগিয়ে খুন করেন বিপ্লব পারিদা। ঘটনার পর নিজেই মোটরবাইক চালিয়ে কাঁকসা থানায় অপরাধের কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের মেঝে থেকে ইপসা প্রিয়দর্শিনীর দেহ উদ্ধার করে। এরপর মৃতার পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। আবাসনের অন্যান্য বাসিন্দারাও ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েন। ঘটনার তদন্ত শুরু করে কাঁকসা থানার পুলিশ। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও শুনানির পর অবশেষে মামলায় অভিযুক্ত বিপ্লব পারিদাকে দোষী সাব্যস্ত করে দুর্গাপুর মহকুমা আদালত। যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড সঙ্গে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী শ্রাবণী সরকারের কথাই,”২০২১ সালের ৫সেপ্টেম্বর এই ঘটনা ঘটেছিল। ৬সেপ্টেম্বর মামলা শুরু হয়েছিল। দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পাঁচ বছর ধরে মামলা চলে। শেষ পর্যন্ত তদন্তের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। তারপরেই যাবজ্জীবন সাজা এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।।”



